অবৈধ সম্পর্ক চাপা দিতেই রথীশচন্দ্রকে খুন করালেন স্ত্রী

0
16

ঢাকা: সংবাদ মাধ্যমের সামনে মায়াকান্না কেঁদে বলেছিলেন স্বামীর জীবনের জন্য আশঙ্কিত৷ তখনও বোঝা যায়নি কী ভীষণ ষড়যন্ত্রের তিনিই খলনায়িকা ৷ শেষ হল নাটক ৷ অবৈধ প্রেমের কথা চাপা দিতেই স্ত্রী দীপার ষড়যন্ত্রে খুন হতে হয়েছে আইনজীবী রথীশচন্দ্র ভৌমিককে৷ মিলেছে নিখোঁজ আইনজীবীর দেহ ৷ মঙ্গলবার গভীর রাতে রংপুর শহরের তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকার নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় রংপুরে ৷

এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী দীপা ভৌমিককে৷ তদন্তে উঠে এসেছে, শিক্ষক সহকর্মীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীকে খুনের ছক করেছিলেন দীপা৷ গ্রেফতার করা হয়েছে দীপা দেবীর গোপন প্রেমিককে৷ জেরায় তারা স্বীকার করেছেন খুনের কথা৷ তাদের দেওয়া তথ্য থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (ব়্যাব)।

তদন্তকারী অফিসার মেজর রাব্বী সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যেই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও, অন্তত চার-পাঁচ দিন আগে খুন করা হয় রথীশচন্দ্রকে৷ খুনের পর দেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল৷ পরে রথীশের ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক সুবল মৃতদেহ শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলে রথীশের স্ত্রী দীপাকেও নিয়ে গিয়েছিল র‌্যাব। যে বাড়িতে রথীশচন্দ্র ভৌমিকের দেহ পাওয়া গেছে, সেই বাড়ি দীপার সহকর্মী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের ভাইয়ের বাড়ি।

নিহত রথীশচন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবুসোনা ছিলেন রংপুরের পাবলিক প্রসিকিউটার৷ তিনি জামাত ইসলামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা লড়তেন৷ বিভিন্ন সময়ে আনসারুল্লা বাংলা টিম ও নব্য জেএমবি জঙ্গি সংগঠনের হাতে খুন হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে মামলার অন্যতম আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন৷

গত কয়েকদিন ধরেই রথীশচন্দ্র ভৌমিকের অন্তর্ধান ক্রমশ জটিল আকার নিয়ে ফেলে৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, যেহেতু তিনি জামাত বিরোধী মামলা লড়তেন তাই তাকে কোনও জঙ্গি সংগঠন অপহরণ করেছে৷ এমনকি রথীশবাবুর স্ত্রী দীপা ভৌমিক জানিয়েছিলেন, স্বামীর চিন্তায় আতঙ্ক বাড়ছে৷ তবে তাঁর কথায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে৷ সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ও ব়্যাব তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়৷ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারা গিয়েছিল, পারিবারিক জীবনে অশান্তিতে ছিলেন রথীশবাবু৷

কী সেই কারণ? এই প্রশ্নেই মিলেছে যাবতীয় রহস্যের চাবিকাঠি৷ জানা গিয়েছে, আইনজীবী রথীশচন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিকের সঙ্গে তাঁরই এক শিক্ষক সহকর্মীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল৷ সেটা মেনে নিতে না পারায় চক্রান্তের শিকার হন রথীশচন্দ্র৷ যেহেতু স্বামী জঙ্গি ও ধর্মীয় মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা লড়েন তাই রথীশচন্দ্রকে অপহরণ করিয়ে জঙ্গি চক্রান্তের জাল বুনেছিলেন দীপাদেবী ও তাঁর প্রেমিক৷ সেই মতো পাঁচদিন আগে রথীশচন্দ্রকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়৷

এরপর পুরো সাজানো ঘটনা মতো তাকে খুন করে রটিয়ে দেওয়া হয় অপহরণের গল্প৷ তার সঙ্গে রটিয়ে দেওয়া হয় জঙ্গিদের বদলা নেওয়ার বিষয়টি৷ এদিকে রথীশবাবুর অন্তর্ধান নিয়ে সরব হয় বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, রংপুর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট৷ দুই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি৷

তদন্তে নেমে পুলিশের ধারণা হয় এর পিছনে অন্য কারণ আছে৷ লাগাতার জেরায় রথীশবাবুর স্ত্রী এক সময় ভেঙে পড়েন৷ তার বয়ানের পর স্থানীয় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমানকে আটক করা হয়৷ এরপরেই তদন্তে মোড় নেয় ৷ সুত্রঃ Kolkata24x7

Leave a Reply