আজ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যই মাঠে নামবে বাংলাদেশ!

0
12
গত ম্যাচে জ্বলে উঠেছিলেন ইমরুল-লিটন, আজও তাদের সেভাবেই দেখার অপেক্ষা (ফাইল ছবি)

ঠিক বিপরীত চিত্র দুই দলে। বছরজুড়ে পরাজয়ের গ্লানি বয়ে চলা জিম্বাবুয়ে যখন অনুশীলনে ব্যস্ত, বাংলাদেশ তখন শেষ ওয়ানডের প্রস্তুতি নিয়েছে ঢিলে-ঢালা অনুশীলনে। ২-০ তে এগিয়ে থাকা মাশরাফির ভাবনায় আরেকটি হোয়াইটওয়াশ। অন্যদিকে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার দল লজ্জা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে মরিয়া! আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও গাজী টেলিভিশন।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা বলেছিলেন কথাটা- বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ফেভারিট। কথাটার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি। অনেক ম্যাচ খেলার কারণেই অন্য প্রতিপক্ষের তুলনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের জয়ের সুযোগটা বেশি থাকে। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিয়ে মাসাকাদজার কথাকে ভুল প্রমাণ করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে তাই একদিক থেকে নিয়মরক্ষার। তবে এই ম্যাচ নিয়েও বাংলাদেশ শিবিরে চলছে অনেক ভাবনা। মূল লক্ষ্য অবশ্যই হোয়াইটওয়াশ। তবে এর বাইরে বেশ কিছু ক্রিকেটারকে ‘বাজিয়ে দেখার’ চিন্তাটা কাজ করছে ভালোভাবেই।

সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল চোটের কারণে দলে নেই। ক্রিকেটীয় শক্তি-সামর্থ্যে বাংলাদেশও এখন জিম্বাবুয়ের চেয়ে অনেকখানিই এগিয়ে থাকা দল। এই সিরিজ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাই দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টকে। অভিষেক করানো হয়েছে ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে, দীর্ঘদিন পর দলে ফেরানো হয়েছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। দুই ম্যাচে খেলানো হয়েছে একই একাদশ। ফলে আগে থেকেই স্কোয়াডে থাকা চার খেলোয়াড়ের মাঠে নামাই হয়নি। সিরিজের মাঝপথে এরপর দলে নেওয়া হয়েছে সৌম্য সরকারকে। একাদশের বাইরে থাকা চার ক্রিকেটার ও সৌম্য- এই পাঁচজনকে নিয়েই কাল চলেছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন। সেক্ষেত্রে আজকের ম্যাচে এই পাঁচজনের মধ্যে এক বা একাধিক ক্রিকেটারকে মাঠে দেখা যেতেই পারে।

তবে সিরিজের মাঝে হঠাৎ ডাক পাওয়াতেই সৌম্যর খেলার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে অনেকখানি বেশি। তবে তাকে কোথায় খেলানো হবে, সেই ব্যাপারে ম্যাচের আগের দিন কিছুটা দ্বিধান্বিত শোনাল অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠ। গত বেশ কয়েকটি সিরিজ ধরেই ওয়ানডে দলে আছেন আরিফুল হক। কিন্তু এখনও জোটেনি ওয়ানডে ক্যাপ। মাশরাফি মানছেন, আরিফুলকেও একটা সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে সৌম্য আর আরিফুলের মধ্যে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবেন- জানতে চাইলে মাশরাফি বলেন, দু’জনের ভূমিকা হবে একেবারেই আলাদা। বললেন একাদশের বাইরে থাকা বাকি ক্রিকেটারদের কথাও, ‘আরিফুলের একটা সুযোগ প্রাপ্য। তবে সে খেলবে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। সৌম্য হয়তো খেললে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলবে। দু’জনের জায়গা আলাদা। তা ছাড়া সৌম্য তো গতকালই (বুধবার) দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তার ক্ষেত্রে কী হবে, সেটি এখনও জানি না। যারা ডাক পায়, সবাই তো ম্যাচ খেলার প্রত্যাশা করে। তবে পজিশনের ওপরও নির্ভর করে অনেক কিছু, কে কোথায় খেলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটির ওপর ভিত্তি করেই দলটি করা উচিত বলে আমি মনে করি। যারা আছে তাদের পজিশন অনুযায়ী বসানো যায়। আবু হায়দার রনি বাইরে আছে, শান্তও বাইরে। শান্ত যদিও পর পর তিনটি সুযোগ বড় মঞ্চে পেয়েছে, হয়তো সামনেও পাবে। আমার কাছে মনে হয়, একজন খেলোয়াড়কে সেট করার ক্ষেত্রে তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে যে, সে কী চায়।’

নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের চাওয়া মাশরাফি না জানলেও দলের আজকের চাওয়াটা তিনি জানেন বটে। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে খানিকটা নির্ভার থাকলেও লক্ষ্য তার হোয়াইটওয়াশ। বললেন, ‘খানিকটা স্বস্তি লাগছে যে, সিরিজটা জিতে গেছি। জিম্বাবুয়ের এই দলটা বেশ ভালো। পিটার মুর যখন সাত নম্বরে ব্যাটিং করে, তখন তাদের ব্যাটিং গভীরতাটা বোঝা যায়। তার ওপর আমাদেরও সাকিব আর তামিমের মতো দুই ক্রিকেটার বাইরে। তবে এখনও একটা ম্যাচ আছে। দেখা যাক কী হয়। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই।’

জয় চাইবে জিম্বাবুয়েও। বাজে একটা বছর কাটানো দলের জন্য সান্ত্বনার একটা জয়ও যে হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা।
// সুত্রঃ সমকাল/বাংলা ট্রিবিউন//

Leave a Reply