ইসরায়েলিদের নিজেদের ভূমিতে বসবাসের অধিকার আছে : সৌদি যুবরাজ

0
11
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলিদের নিজেদের ভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার আছে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার মার্কিন ম্যাগাজিন আটলান্টিকে একটি সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ এ মন্তব্য করেন। যদিও ইসলাম ধর্মের উৎপত্তিস্থল ও প্রধান তীর্থভূমি সৌদি আরব ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। খবর রয়টার্স ও এএফপি।

এ মন্তব্যের পর রয়টার্স জানিয়েছে, রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা যে বাড়ছে, এটা তারই একটি নমুনা। অন্যদিকে এএফাপি জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে হয়তো খাতা কলমে বা প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই কিন্তু তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আর সেটা গত কয়েক বছর ধরেই দৃশ্যমান হয়েছে।

যুবরাজ সালমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল নিজেদের পিতৃপুরুষের ভূমিতে একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বসবাসের সুযোগ ইহুদিদের আছে বলে তিনি মনে করেন কি না।

এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নিজেদের ভূমির ওপর ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের পূর্ণ অধিকার আছে। আমাদের এখন একটি শান্তিচুক্তি দরকার যাতে সব পক্ষই স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক একটি সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।’

তবে ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় আরব ভূখণ্ড দখল করে নেয়। ওই ভূমি ফেরত দেওয়ার ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক নির্ভর করবে; এমন নীতিই রিয়াদ এতদিন বজায় রেখে এসেছে। ফিলিস্তিনিরা ওই ভূমির দাবিদার।

গত মাসের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা সৌদি যুবরাজ আটলান্টিককে বলেন, ‘ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার এবং জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ ধর্মীয় কারণে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই; অন্য কারও বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।’

রয়টার্স লিখেছে, সৌদি যুবরাজের এই সফরের উদ্দেশ্য মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের প্রভাব বলয় ভেঙে সৌদির পক্ষে সমর্থন বাড়ানোও তার একটি উদ্দেশ্য। অন্যদিকে এএফপি লিখেছে, সৌদি আরব ও ইসরায়েল দুই রাষ্ট্রই মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা তাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলার জন্য একত্র হয়েছে। আর তাদের পিছনে মিত্র হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে অনেক আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও শক্তি মোকাবেলায় সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে এক ধরনের গোপন সখ্যতা গড়ে তুলেছে বলে গুঞ্জন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। গতবছর নভেম্বরে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী জুভাল স্টেইনিতজ রিয়াদ-তেল আবিব গোপন যোগাযোগের কথা স্বীকার করলে সেই ধারণা ভিত্তি পায়।

ইসরায়েলের চিফ অফ স্টাফ জেনারেল গাদি আইজেনকট সে সময় বলেছিলেন, ইরানকে মোকাবেলায় তার দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়েও প্রস্তুত।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে সৌদি যুবরাজ বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে অনেক বিষয়েই আমাদের আগ্রহের মিল আছে। আর শান্তি যদি থাকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের অন্য সদস্য দেশগুলোও ইসরায়েলের সঙ্গে অনেক বিষয়েই আগ্রহী হবে।’

শুধু তা-ই নয়, সৌদি আরব গতমাসে প্রথমবারের মত তাদের আকাশ পথ ইসরায়েলগামী কমার্শিয়াল ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের পরিবর্তনের ধারায় ওই ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের একজন কর্মকর্তা। সুত্রঃ বণিক বার্তা।

Leave a Reply