‘উনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, উনি কখনও ভুল সিদ্ধান্ত নেননি’!

0
28

ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখতে যাওয়া ও দ্রুত ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করার নির্দেশনা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেকক্ষণ ছিলেন, একান্তে কথা বলেছেন। খুবই আন্তরিকভাবে কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, জাফর ইকবাল এতে অনেক বুস্ট আপ হয়েছেন।’

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাফর ইকবালকে দেখতে ঢাকা সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ২৫ মিনিট অবস্থান করে তিনি আহত অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী কী আলাপ করলেন জানতে চাইলে ইয়াসমিন হক বলেন, ‘সেখানে সিনিয়র চিকিৎসকরা অনেকে ছিলেন। সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল থেকে আজ পর্যন্ত কী হলো না হলো মেজর জেনারেল মোতাহার তার পুরোটা ব্রিফ করলেন। ওসমানী মেডিক্যাল খুবই ভালো কাজ করেছে। এখানে আসার পর পরশু রাতে সবাই ছিলেন, কীভাবে কেয়ার নিচ্ছেন–সেসব প্রধানমন্ত্রীকে তারা জানালেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, এভরিথিং ইজ ফাইন।’

ইয়াসমিন হক আরও বলেন, ‘আজ থেকে তাকে রেগুলার ডায়েট দেওয়া হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে এখানে আনার (জাফর ইকবালকে) সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ এখানে কেউ ডিস্টার্ব করতে পারবে না। একথার পর আমিও উনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আসলেই উনি খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দ্যাট ওয়াজ গুড।’

প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, জাফর ইকবাল হাসপাতালেই কয়েকদিন বিশ্রাম নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাওয়ায় জাফর ইকবাল বলেন, উনার মতো একজন মানুষ, আমি ছোট একটা মানুষ আমাকে দেখতে এসেছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু জাতির পিতার মেয়ে।

ইয়াসমিন হক বলেন, ‘উনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, উনি কখনও ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। এবার জাফর ইকবালের ক্ষেত্রে উনি যা করেছেন, আমি গ্রেটফুল। কেননা, এটি অসম্ভব দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ, শিক্ষার্থীরা অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে যায় তো, ওরা সব শুনেটুনে ভেতরে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে কারণে এই জায়গাটা ভালো ছিল।’

জাফর ইকবাল স্যার কেমন আছেন জানতে চাইলে অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘এখন মাশাল্লাহ একদম ভালো, আপনারা দোয়া করবেন। তিনি এখানে (সিএমএইচ) কয়েকদিন রেস্ট নেবেন। কোনও ধরনের সংক্রমণের শিকার যেন না হন, সেজন্যই এখানে রাখা হবে।’

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যাপক জাফর ইকবাল হামলার শিকার হন। তার মাথায় এবং হাতে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারী ফয়জুর। হামলার পরপরই তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন শিক্ষার্থীরা।

ওই হামলার পরপর জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ড. জাফর ইকবাল আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিলেট থেকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে।

Leave a Reply