‘এক বছর না যেতেই রাস্তা বেহাল হয় কেন’

0
4

সারাদেশে সড়কের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদরা। তারা বলেছেন, এক বছর যেতে না যেতেই রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে। নির্বাচনী এলাকায় গেলে জনগণ জানতে চায়, এত কম সময়ে রাস্তার অবস্থা কী করে খারাপ হয়?

রোববার শেরেবাংলা নগরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংদীয় কমিটির বৈঠকে জনপ্রতিনিধিরা আরও বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও জিজ্ঞাসা, একটা রাস্তা কেন এক বছরের বেশি টেকে না। কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মনে এমন ধারণার জন্ম নেয়, নিম্নমানের সড়ক তৈরির পেছনে সাংসদরা জড়িত। তারা জনগণের টাকা মেরে খাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে শহর ও গ্রামে যেসব রাস্তা এখনও বেহাল সেগুলো দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে সাংসদরা বলেন, সামনে নির্বাচন। এলাকায় উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তা না হলে জনগণ ক্ষমতাসীনদের ভোট দেবে না। স্থায়িত্বের জন্য কংক্রিটের ঢালাই রাস্তা তৈরির দাবি জানান তারা। বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

এতে স্থানীয় সরকার, সড়ক ও জনপথ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালায় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বর্ষা ও ঈদ সামনে রেখে সারাদেশের সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করতে এ বৈঠক ডাকা হয়।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার বেশিরভাগ রাস্তা অচল হয়ে পড়েছে। মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে ভালো রাস্তা করতে পারলে আমরা পারব না কেন?

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রকৌশলীরা জানান, কংক্রিটের রাস্তা অনেক ব্যয়বহুল। সড়ক মেরামতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় খুবই কম। জবাবে সাংসদরা বলেন, টেকসই রাস্তা তৈরির টাকা দেবে সরকার।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কংক্রিটের ঢালাই সড়ক করা হলে কত টাকা লাগবে, কোথায় করা হবে এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতিকে প্রধান করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা শিগগিরই ভারত, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা সফর করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবেন। কমিটির সুপারিশের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের রাস্তা প্রশস্ত ও টেকসই করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া গত বছরের বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে এখনও যেসব সড়ক মেরামত করা হয়নি, সেগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার নবম শ্রেণির এক ছাত্র জানতে চেয়েছিল, একটা রাস্তা এক বছর টেকে না কেন? তিনি জবাব দিতে পারেননি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মহিবুর রহমান মানিক এমপি বলেন, ভোটের আগে গ্রামের সব জরাজীর্ণ রাস্তা মেরামত করে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। নাজমুল হক প্রধান এমপি কংক্রিটের রাস্তা করার বিষয়ে সমীক্ষা চালানোর প্রস্তাব করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম মানসম্মত রাস্তা তৈরির তাগিদ দেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মানসম্মত সড়ক তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করা হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, রাস্তা টেকসই করতে হলে মেরামতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সুত্রঃ সমকাল।

Leave a Reply