কম খরচে পাইপে করে জ্বালানি তেল আসবে বাংলার রাজধানী ঢাকায়!

0
3

ঢাকাঃ চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩৮ কিলোমিটার এলাকায় বসবে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের এলপিই কোটেড পাইপ। এই পাইপলাইন দিয়ে বন্দরনগরী থেকে রাজধানীতে আসবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ। কম সময় ও খরচে এবং নিরাপদে রাজধানীতে জ্বালানি তেল সরবরাহে দুই হাজার ৮৬১ কোটি টাকায় ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকারের। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভার পর পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমানে নৌ ও সড়ক পথে জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। কিন্তু জাহাজে তেল আনার সময় অনেক সময় পাইপ দিয়ে চুরি হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব ক্ষতি থেকে বাঁচবে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, “ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। যা ঢাকায় অবস্থিত গোদনাইল ও ফতুল্লার ডিপোগুলো থেকে সরবরাহ করা হয় “বর্তমানে জলপথে প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রায় ২০০টি কোস্টাল ট্যাংকার নিয়োজিত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদপুরে অবস্থিত বিপণন কোম্পানিগুলোর তিনটি ডিপোতে জ্বালানি তেলের বর্তমান চাহিদা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। চট্টগ্রামের প্রধান ঘাঁটি থেকে কোস্টাল ট্যাংকার যোগে বর্তমানে গোদনাইল, ফতুল্লা ও চাঁদপুরে জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়।” এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিপণন কোম্পানিগুলো শ্যালো ড্রাফট ট্যাংকারযোগে উত্তরবঙ্গের বাঘাবাড়ি, চিলমারী ও সাচনা বাজার ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠায়। এই ডিপোগুলোর বর্তমান বার্ষিক চাহিদা প্রায় চার লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

মন্ত্রী বলেন, ট্যাংকারে করে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল যথাসময়ে চট্টগ্রাম থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহনে সরকারকে বিপুল পরিবহন খরচ এবং ঘাটতি বহন করতে হত। এছাড়াও হরতাল ও ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি পরিহবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, ২০২১ সালের পর দেশের পুরনো বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তোলন কমতে থাকবে। দেশে আর কোনও নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে এ প্রকল্পটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
// সুত্রঃ kolkata24x7//

Leave a Reply