কলেজে ভর্তির হিসাব নিকাশ!

0
18

পরীক্ষা মানেই টেনশন, বাড়তি চাপ। এ অবস্থা থাকে ফল প্রকাশের আগমুহূর্ত পর্যন্ত। গতকাল রোববার এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ভালো ফলধারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দের শেষ নেই। কিন্তু তাদের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে আরেক টেনশন। এবারের টেনশন ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে। কারণ, যে পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে, মানসম্মত কলেজগুলোতে সে পরিমাণ আসন নেই। তবে সংশ্নিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন, এবার কোনো আসন সংকট থাকবে না। শতভাগ মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। কোটায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা মেধায় সুযোগ না পেলে তাদের বিশেষভাবে ভর্তি করা হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্‌ সমকালকে বলেন, সারাদেশে উচ্চ মাধ্যমিকে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখায় রয়েছে প্রায় ১১ লাখ। মাদ্রাসায় রয়েছে এক লাখ আট হাজার। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ব্যানবেইসের হিসাবে, মোট আসন ঘাটতি থাকবে ২৯ হাজারের বেশি। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে ব্যানবেইসের হিসাবের গরমিল পাওয়া গেছে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক সমকালকে বলেন, গত বছর যে পরিমাণ আসন ছিল, এবারও তাই আছে। একাদশ শ্রেণিতে আসনের কোনো সংকট নেই। গত বছরের হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন সংখ্যা ১৯ লাখ ৬৬ হাজার। আর এবার পাস করেছে মোট ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। সে হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিকে আসন ফাঁকা থাকবে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৮৯৬টি।

গরমিলের বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের মূল হিসাবটা আমাদের কাছে থাকে। ব্যানবেইসের হিসাবে যদি কমও হয়ে থাকে, তাহলে তা সমন্বয় করে নেওয়া হবে। কোনো আসন সংকট থাকবে না।

এদিকে, রাজধানী ঢাকার নামিদামি ৩৯টি কলেজসহ সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা সদর মিলিয়ে মানসম্মত প্রায় ৮০টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন সংখ্যা ৭৫ হাজারের মতো। অথচ এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। সে হিসাবে প্রায় ৩৫ হাজার সর্বোচ্চ মেধাবী ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।

মেধার ভিত্তিতে ভর্তি : এবার একাদশ শ্রেণিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল আসনে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। তবে বিশেষ অগ্রাধিকারের (কোটা) আবেদনকারী থাকলে মোট আসনের অতিরিক্ত (মুক্তিযোদ্ধা ৫ শতাংশ, বিভাগীয় ও জেলা সদর ৩ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দপ্তর ২ শতাংশ, বিকেএসপি শূন্য দশমিক ৫ এবং প্রবাসী শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা’ চূড়ান্ত করা হয়।

নীতিমালার বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, একটি কলেজে তিনশ’ আসন থাকলে শতভাগ মেধায় ভর্তি করা হবে। আবেদনকারীর মধ্যে কোটাধারীদের কেউ সুযোগ না পেলে তাদের মূল আসনের বাইরে সংশ্নিষ্ট কলেজ নির্ধারিত কোটায় ভর্তি করতে পারবে। বিগত দিনে দেখা গেছে, ১১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ থাকায় অনেক কলেজে আসন শূন্য থাকে। মেধাবীরা বঞ্চিত হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় মেনেই এবার শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে হবে। আগের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো নির্ধারিত সময়ের বাইরে দফায় দফায় ভর্তি করা যাবে না।

কেউ ভর্তি ফরম পূরণ করলে মেধাতালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত কলেজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় কেউ যদি ভর্তি না হয়, তাহলে একবার ফরম পূরণ করে দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ পাবে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে নতুন করে ভর্তি ফরম পূরণ করে ভর্তি হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট শিক্ষার্থী ১০টি কলেজেই ভর্তির সুযোগ পাবে। মেধাতালিকা অনুযায়ী যেখানে সুযোগ পাবে, সেখানেই ভর্তি হতে পারবে।

গতবারের মতো এবারও অনলাইন এবং এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করা যাবে। অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসায় আবেদন করা যাবে। এতে নেওয়া হবে ১৫০ টাকা। মোবাইল ফোনে প্রতি এসএমএসে একটি করে কলেজে আবেদন করা যাবে। এর জন্য ১২০ টাকা দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং অনলাইন মিলিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে না।

ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু ১৩ মে : গত ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে জানানো হয়, ভর্তির জন্য অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১৩ মে থেকে। আবেদনের শেষ সময় ২৪ মে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের আবেদন আগামী ৫ ও ৬ জুন গ্রহণ করা হবে। একজন শিক্ষার্থী যত কলেজে আবেদন করবে, তার মধ্য থেকে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তবে ভর্তিতে আগের মতো এবারও স্কুল, কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তিতে অগ্রাধিকার পাবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। এরপর আরও একাধিক ধাপে ফল প্রকাশ, মাইগ্রেশনসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি : এবার আগের মতোই ঢাকা মহানগর এলাকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য নয় হাজার (বাংলা মাধ্যম) ও ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ প্রদান বাধ্যতামূলক।

মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে দুই হাজার এবং ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করা হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদান অনুমতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্রঃ সমকাল।

Leave a Reply