ক্ষমতায় আসার বার্তা দিলেন প্রাক্তন সেনাশাসক -এরশাদ !

0
12

ঢাকা: দিনটি গুরুত্বপূর্ণ৷ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চের দিনেই বাংলাদেশে আরও একবার সেনা শাসনে চলে গিয়েছিল ৷ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন লে. জেনারেল হুসেইন মহম্মদ এরশাদ ৷ আর পঁয়ত্রিশ বছর পর এমনই দিনে নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করতে মরিয়া হলেন তিনি ৷ প্রাত্তন ‘প্রবীণ সেনাশাসক’ তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের দল জাতীয় পার্টির বিশাল সমাবেশ কী তৃতীয় শক্তি হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ? উঠছে এমনই প্রশ্ন ৷

শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জাতীয় পার্টি(জাপা)-র বিশাল সমাবেশ থেকে ক্ষমতায় আসার ডাক দিয়েছেন এরশাদ৷ তিনি বলেন, ‘আজ এই জনসমুদ্রে আমি হাজির হয়েছি আপনাদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে। এ বার্তা ইতিহাস গড়ার, ইতিহাস সৃষ্টি করার। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার।’

সমাবেশ শুরুর আগে বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরান ও পরে গীতা পাঠ করা হয় ৷ এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে জাতীয় পার্টি৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে আওয়ামি লিগ (বর্তমানে ক্ষমতাসীন) বনাম বিএনপি(সবথেকে শক্তিশালী বিরোধীপক্ষ)-এর দ্বিমাত্রিক লড়াই দেখা যায়৷ এর সঙ্গে দুটি পক্ষের জোটে আছে অন্যান্য দলগুলি৷ আর তৃতীয় শক্তি হিসেবে পরিচিত হয় জাপা(জাতীয় পার্টি)৷ তবে তাদের শক্তি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে রংপুরে৷ কারণ সেখান থেকেই দলকে পরিচালিত করেন হুসেইন মহম্মদ এরশাদ৷

বর্তমান জাতীয় সংসদে জাপা হল প্রধান বিরোধী দল৷ আর বিরোধী দলনেত্রী হলে এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ৷ গত নির্বাচনে রিগিংয়ের অভিযোগে এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একটি অংশ নির্বাচন বয়কট করে৷ অন্য অংশটি সরাসরি জাতীয় সংসদে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিরোধী দলের মর্যাদা পায়৷ কারণ গত জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল খালেদা জিয়ার বিএনপি৷

অভিযোগ, আলটপকা বিরোধী দল হয়ে গিয়েছে জাতীয় পার্টি৷ দলেরই কয়েকজন সাংসদ পেয়েছেন মন্ত্রীর পদমর্যাদা৷ এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়েই দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা৷ শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ থেকে সেই ধোঁয়াশা কাটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেন বিরোধী নেত্রী রওশন এরশাদ৷ তিনি বলেন, ‘আমরা আর কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হব না। আমরা একক নির্বাচন করব। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব।’

এদিনের সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিছিল নিয়ে এসেছেন জাতীয় পার্টি ও সম্মিলিত জোটের বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।

একনজরে এরশাদের সামরিক শাসন: ১৯৮২-১৯৯০ চলেছিল এই শাসন৷ সেনা বাহিনীর তৎকালীন লে. জেনারেল হুসেইন মহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ। শুরু হয় সেনা শাসন৷ বাংলাদেশ জুড়ে তৈরি হয় অস্থিরতা৷ পাল্টা রাজনৈতিক আন্দোলনে উত্তপ্ত ও রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ৷ পরস্পর বিরোধী আওয়ামি লিগ ও বিএনপি যৌথভাবে এরশাদ বিরোধী অবস্থান নেয়৷ গণ আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে৷ ১৯৯০ সালে পতন হয় এরশাদ নেতৃত্বে চলা সামরিক সরকারের৷

Leave a Reply