খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছিল লোক দেখানো !

0
5
শনিবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় খালেদা জিয়াকে।
বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের দাবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি লোক দেখানো বলে দাবি করেছেন বিএনপিপন্থী সিনিয়র চিকিৎসকরা।

তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রশাসনিক তৎপরতা হঠকারিতামূলক ও জনবিভ্রান্তি সৃষ্টির সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। কেননা ৭ এপ্রিল কোনো প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই তাকে হঠাৎ মামুলি এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এমনকি তার চলাচলের জন্যও বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়া হয়নি।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট চিকিৎসক সমাজের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেবশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক গোলাম মঈনউদ্দিন, অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন, অধ্যাপক শাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক এম এ সালাম প্রমুখ।

সিনিয়র চিকিৎসকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি স্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আমরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয়ে সরকারের মেডিকেল বোর্ড যে পরীক্ষাগুচ্ছ সম্পন্ন করার কথা সে ব্যাপারে তারা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে তার লিভার, কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, অস্থির শক্তি নির্ণয় ইত্যাদি জীবন ও সুস্থতার সম্বন্ধীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়াটা একজন চিকিৎসক হিসাবে রোগীকে ‘অবহেলা না করা’ আচরণের নুমনা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। বিষয়টি স্বাস্থ্য সচেতন ও অভিজ্ঞজন সবাইকে এই চোখে দেখতে স্বস্তিবোধ করবেন।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হলেও বলা হচ্ছে যে তার বিছানা বালিশ ও আসবাবও অত্যন্ত নিম্নমানের ও ব্যবহার অযোগ্য। একজন অসুস্থ মানুষ হিসেবে তার খাদ্য-খাবারের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ তার এই বন্দি অবস্থাকে বিভৎস নির্যাতনের প্রতীক কনসানট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন। তার পরিবারের অন্যান্যদের মতো তাকেও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়াই প্রকৃত উদ্দেশ্য সে বিষয়ে জনমনের সন্দেহ প্রকট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান বলে উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা একটি মৌলিক অধিকার। জেল কোড অনুযায়ী যে কোনো বন্দি তার চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের চিকিৎকের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারেই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply