চালক মুসলিম হওয়ায় বাতিল হল ওলা ক্যাবের বুকিং !

0
14
প্রতীকী ছবি

চালক মুসলিম হওয়ার কারণে ওলা ক্যাব বুকিং ক্যানসেল করলেন এক ব্যক্তি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের সক্রিয় সদস্য ওই ব্যক্তির নাম অভিষেক মিশ্র।

এখানেই শেষ হয়নি গেরুয়া ভক্তের কীর্তি। তাঁর কাহিনী শেয়ার করেছেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। যা ঘিরে ঝড় উঠেছে বিতর্কের। অভিষেক মিশ্রও দিয়েছেন পালটা প্রতিক্রিয়া।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে চলতি মাসের ২০ তারিখে। অভিষেক মিশ্র নিজের কীর্তি ট্যুইট করার পর। অভিষেক বাবু ট্যুইটারে লিখেছিলেন যে তাঁর টাকা তিনি কোনও ‘জেহাদি ব্যক্তি’কে দিতে আগ্রহী নন। ওলা ক্যাবের বুকিং বাতিল করার স্ক্রিনশটটি ট্যুইটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে বুকিং করা ওলা ক্যাবের চালকের নাম মাসুদ আলম।

Screenshot এবং অভিষেক মিশ্র

ট্যুইটারে অভিষেক মিশ্রের প্রোফাইল থেকে ১৪ হাজার ব্যক্তিকে ফলো করা হয়ে থাকে। সেই তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী মহেশ শর্মার মতো ব্যক্তি। ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া তথ্য অনুসারে, অযোধ্যার বাসিন্দা অভিষেক মিশ্র বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের সক্রিয় সদস্য। ঙ্গেই দুই সংগঠনই সংঘ পরিবারের অংশ। আর সংঘ পরিবারের মতাদর্শ মেনেই চলে কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। অভিষেক মিশ্র বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আইটি সেলের দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে, এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু মানুষ দাবি করেছেন ওলা ক্যাব কর্তৃপক্ষ চিরতরে অভিষেক মিশ্রকে নিষিদ্ধ করে দিক। অনেকে আবার উত্তর প্রদেশ রাজ্য প্রশাসনকে এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে মুখ খুলেছে ওলা কর্তৃপক্ষ। ওলার পক্ষ থেকে ট্যুইট করে বলা হয়েছে, “ওলা আমাদের দেশের মতোই একটা ধর্মনিরপেক্ষ সংস্থা। আমরা কখনই আমাদের যাত্রী বা চালকদের জাত, ধর্ম, লিঙ্গ বা ধর্ম বিশ্বাসের মাধ্যমে ভেদাভেদ করি না। আমাদের সকল যাত্রী এবং চালকদের কাছে অনুরোধ করছি অনুগ্রহ করে সর্বদা সকলকে সম্মান দিন।”

চারদিকের সমালোচনার মাঝে মুখ খুলেছেন অভিষেক মিশ্র। তিনি লিখেছেন, “অনেক লোকজন আমাকে আক্রমণ করা শুরু করেছে। আমার নিজের কি কোনও পছন্দ থাকতে পারে না? যদি তারা গাড়িতে হনুমানের পোস্টার লাগিয়ে প্রচার চালাতে পারে, কাঠুয়া কাণ্ডের পরে হিন্দু এবং হিন্দু দেবতাদের বাঁচাতে তারা প্রচার চালালে তাদেরকেও সমালোচনার শিকার হতে হতো।” নিজের এই বক্তব্যের সমর্থনে একটি ওলা গাড়িতে ভগবান শ্রী হনুমানের স্টিকার লাগানো ছবি পোস্ট করেছেন অভিষেক মিশ্র।

জেহাদি চালকের গাড়িতে না উঠতে না চাওয়া এবং জেহাদিদের টাকা না দিতে চাওয়া অভিষেক মিশ্রের স্বপক্ষেও অনেকে বক্তব্য পেশ করেছেন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে অভিষেকবাবুর কীর্তিকে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সুত্রঃ Kolkata24x7

Leave a Reply