চীনের ‘অন্যায্য’ শুল্কে ক্ষোভ প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের

0
11

যুক্তরাষ্ট্র সোমবার চীনের ‘অন্যায্য’ শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। চীন দেশটির ১২৮টি আমদানি পণ্যের ওপর প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করায় এ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে ইটের বদলে পাটকেল ছোড়ার পদক্ষেপে বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা আরো ঘনীভূত হলো। খবর এএফপি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করার পর থেকে বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা শুরু হয়। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ চাপান-উতোরের পর চীনের স্টেট কাউন্সেলের শুল্ক কমিশন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা করার জন্য ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছিল। তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ কারণটিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার ‘লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপটি ‘কেবল কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে নেয়া হয়েছে, যা বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থার মূলনীতিকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করে এবং চীনের স্বার্থকে গুরুতরভাবে আঘাত করেছে।’

ট্রাম্প নিয়মিতভাবেই চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে আসছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযানের সময় তিনি এ ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউজ সোমবার আবারো চীনকে লক্ষ্য করে আঙুল তুলেছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র লিন্ডসে ওয়াল্টার্স বলেন, চীনের ভর্তুকি এবং ক্রমাগত অতিসক্ষমতা হচ্ছে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ। তিনি আরো বলেন, ন্যায্যভাবে রফতানিকৃত মার্কিন পণ্যকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু না করে চীনের প্রয়োজন নিজের অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা বন্ধ করা। এ চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে এবং বৈশ্বিক বাজারকে বিনষ্ট করছে।

গত মাসে বেইজিং ফলমূল, শূকরের মাংস, ওয়াইন, বাদাম, অ্যালুমিনিয়াম টুকরাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ওপর ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। সরকারি এক বিবৃতির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সোমবার থেকে এ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার প্রতিক্রিয়ায় চীন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘আমরা আশা করছি, ডব্লিউটিওর আইন ভঙ্গকারী পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই প্রত্যাহার করবে এবং যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যকে স্বাভাবিক গতিপথে ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তাই হচ্ছে একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে এমনকি তাদের মিত্রদেশগুলোও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পরে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সাময়িকভাবে শুল্ক রেয়াত দিয়েছেন।

অবশ্য হোয়াইট হাউজ মেধাস্বত্ব ‘চুরি’র কারণে চীনের ওপর প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা লিউ হে গত মাসে টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিনকে বলেন, মেধাস্বত্ব তদন্তটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ভঙ্গ করেছে এবং চীন ‘নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত’।

চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত দৈনিক গ্লোবাল টাইমসে বলা হয়, চীনের আরোপিত শুল্ক ওয়াশিংটনের ওপর একটি বড় আঘাত। ওয়াশিংটন আক্রমণাত্মকভাবে বাণিজ্যযুদ্ধের কলকাঠি নাড়ছে এবং চীনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতি নেয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য চুকাতে হবে।

অবশ্য এসব বাগ্যুদ্ধ সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস ইঙ্গিত দিয়েছেন, মেধাস্বত্ব নিয়ে নতুন পদক্ষেপগুলো ‘সমঝোতায় বসার লক্ষণ মাত্র’।

মার্কিন সিনেটর, ডেমোক্রেটিক পার্টির এলিজাবেথ ওয়ারেন শুক্র ও শনিবার লিউ হেসহ চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

টুইটারে এক বার্তায় ওয়ারেন বলেন, কীভাবে চীনের পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে, সে বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ হের সঙ্গে আমার বিশদ আলাপ হয়েছে। আমি দীর্ঘকাল ধরে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় ধরনের বাণিজ্য নীতিগুলোর ব্যাপারেই সংশয়ী ছিলাম। এগুলো কর্মজীবী পরিবারের বদলে বড় বড় করপোরেশনকে সেবা পরিবেশন করে আসছে।

উল্লেখ্য, গত বছর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩৭ হাজার ৫২০ কোটি ডলার। সুত্রঃ বণিক বার্তা ।

Leave a Reply