ছাত্রীকে রক্তাক্ত করাই সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগ সভাপতি এশা বহিষ্কার!

0
9
বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রীকে নির্যাতন করেছেন ওই হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান। এমন অভিযোগ করেছেন হলের সাধারণ ছাত্রীরা। তাদের দাবি, হলের সভাপতি ইফফাত জাহান রাতে বোটানি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তারকে নিজের রুমে নিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে মোর্শেদর পা ধারালো বস্তু দিয়ে কেটে দেওয়া হয় বলে ছাত্রীরা অভিযোগ করেন।

ওই ছাত্রীর নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ছাত্রীরা রুম থেকে বেরিয়ে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। সে সময় তাঁদের অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতির বহিষ্কার দাবি করে স্লোগান দিতে শোনা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রী নির্যাতনের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হল থেকে প্রায় হাজার খানেক ছাত্র সুফিয়া কামাল হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকে দাবি করেন, মল চত্বরের সামনে ছাত্রলীগ নেতারা তাঁদের এখানে আসতে বাধা দিয়েছেন।হলের ভেতর সাধারণ ছাত্রীদের একাংশ।

হলের ভেতর সাধারণ ছাত্রীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রী নির্যাতনের বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ রিজওয়ানা রহমানে সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানি ঘটনাস্থলে আসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সব আবাসিক শিক্ষকরা ছাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাঁরা কেউ কথা শুনছে না। অভিযুক্তর ছাত্রীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরও কেউ আন্দোলন করলে তারা অন্য কিছ চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। চলে যাওয়ার সময় ছাত্রদের তোপের মুখে পড়েন প্রক্টর।.
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী কাউকে বকা দেওয়া হয়েছে। অনেকে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত ওই নেত্রীকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করা হবে বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আহত ওই শিক্ষার্থী সরকারি কর্মচারি হাসপাতালে চিকৎসা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডকেল সেন্টারে যান। সেখান থেকে তিনি তাঁর আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তিনি। সুত্রঃ প্রথম আলো।

Leave a Reply