জানেন পৃথিবীর ঠিক কোথায় এসে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্পেসক্রাফট?

0
4
Spacecraft

নিউ ইয়র্ক: কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে চলেছে চিনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া স্পেস স্টেশন তিয়াংগং-১। রবিবার রাতেই সেটি আছড়ে পড়বে বলে জানা গিয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বারবার জানিয়েছেন এতে ভয়ের কিছু নেই। সম্ভবত প্রশান্ত মহাসাগরেই এসে পড়বে সেই স্পেসক্রাফট। ওই অঞ্চলেই এসে পড়ে যত নষ্ট হয়ে যাওয়া স্পেসক্রাফট। মানুষের বাসস্থান থেকে অনেক দূরে থাকা স্পেসক্রাফটের ওই কবরস্থানের নাম ‘পয়েন্ট নেমো’।

মহাকাশ যানের যত ধ্বংসাবশেষ সব এসে পড়ে ওই বিশেষ একটি জায়গায়। পৃথিবীর মধ্যে এটাই একমাত্র পয়েন্ট যেটা স্থলভাগ থেকে সবথেকে দূরে অবস্থিত। তাই এই জায়গাকেই বেছে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। উত্তরে থাকা পিটকায়রন থেকে ২৬৮৮ কিলোমিটার দূরে এই পয়েন্ট। এর উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে ইস্টার আইল্যান্ড আর দক্ষিণে মাহের আইল্যান্ড।

একেকটি স্পেসক্রাফটের ওজন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টন পর্যন্ত। আর সেগুলি অর্ধেক দগ্ধ অবস্থায় এসে পড়ে পয়েন্ট নেমোতে। কার্যত ধ্বংসাবশেষ জমা হচ্ছে ওই জায়গায়। এখনও পর্যন্ত পয়েন্ট নেমোতে এসে পড়া সবথেকে ভারি স্পেসক্রাফটি হল রাশিয়ার এমআইআর স্পেস ল্যাব, যার ওজন ছিল ১২০ টন। ২০০১-এ ভেঙে পড়ে এটি।

৪২০ টনের ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ও ২০২৪-এ ভেঙে পড়বে ওই পয়েন্ট নেমোতেই। যদিও চেষ্টা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে যাতে এমন উপাদান দিয়ে স্পেসক্রাফট বানানো যায়, যা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় গলে যাবে। নাসা ইতিমধ্যেই ফুয়েল ট্যাংক তৈরির ক্ষেত্রে টাইটেনিয়ামের জায়গায় অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার শুরু করেছে।

কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিশ্বের যে কোনও জায়গায় এসে পড়তে পারে চিনের স্পেস স্টেশন। পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে তিয়াংগং-১ নামে ওই স্পেস স্টেশন। পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময় আগুন জ্বলে যাবে গোটা স্পেস স্টেশনটিতে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে সেটি। একাধিক আগুনের গোলার মতো তৈরি হবে। তবে, ঠিক কোথায় এটি পড়বে তা নিয়ে অন্ধকারেই ছিলেন বিজ্ঞানীরা। এবার হিসেব করে বের করা হয়েছে যে কোথায় পড়তে পারে সাড়ে আট টনের ওই স্পেস স্টেশন। জানা গিয়েছে, তিয়াংগং-ং নামে ওই স্পেস স্টেশন পড়তে পারে স্পেন, ইতালি, তুরস্ক কিংবা ভারতে। আমেরিকার কোনও জায়গায় পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মহাকাশে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে ২০১১ সালে প্রথমবার এই মহাকাশ স্টেশনটি উৎক্ষেপণ করেছিল চিন। বেশ কয়েকবার এটি মানুষসহ এবং মানুষ ছাড়াও মহাকাশ পরিভ্রমণ করেছে। ২০১২ সালে চিনের নভশ্চর লিউ ইয়াংকে নিয়ে মহাকাশ পাড়ি দেয়।

Leave a Reply