জামিন মিললেও খালেদার মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন!

0
12

ঢাকা: জামিন তো হল মুক্তি মিলবে কি? পদ্মাপারের রাজনীতিতে ঘুরছে এই প্রশ্ন ৷

বহু টাকা তছরুপে অভিযুক্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনও জেলে বন্দি৷ যদিও তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আদালত৷ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন মিললেও আরও একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ৷

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখনই কারাগার থেকে বাইরে আসতে পারছেন না তিনি। কারণ তাঁকে নতুন করে নাশকতার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ফলে বিএনপি মহলে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।

আওয়ামি লিগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক রিগিং ও ভোট লুঠ হয়েছে এই অভিযোগে হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু করেছিল বিএনপি ও জামাত ইসলামি জোট৷ ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাছে ঢাকাগামী একটি বাস আসামাত্র বোমা নিক্ষেপ করা হয়৷ দুর্বৃত্তরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। এই হামলায় ঘটনাস্থলে সাতজন পরে একজন সহ মোট আট জনের মৃত্যু হয়৷ তারই জেরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হুকুমের আসামী করে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছিল৷

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, ‘কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পিডব্লিউ জারি করা হয়েছে৷ এই পিডব্লিউর মানে হলো আসামি অন্য মামলায় কারাগারে আছেন, এই মামলাতেও তিনি কারাগারে অবরুদ্ধ থাকবেন। তাই কুমিল্লার নাশকতার মামলাতেও খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন বলে ধরে নিতে হবে। ফলে এই মামলায়ও জামিন না হওয়া পর্যন্ত তা জামিনে কারামুক্তির সুযোগ নেই।’

বিএনপির হয়ে মামলা লড়া আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নেত্রীকে কুমিল্লার নাশকতার মামলায় জামিন পেতেই হবে৷ নইলে আপাতত তার কারামুক্তি সম্ভব নয়।

একদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা অন্যদিকে নাশকতার মামলা কার্যত আইনি প্যাঁচে পড়ে গিয়েছেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া৷ তাঁর মুক্তি না হলে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে পারে৷ সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন ফের প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে৷ এদিকে দলনেত্রীকে জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া বিএনপি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশে আইন নাই, আদালত নাই, বিচার বিভাগ নাই। কোথায় যাবেন আপনারা? পথ একটাই—তা হলো রাজপথ। সেই রাজপথের মধ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করি। রাজপথই হচ্ছে একমাত্র বিকল্প। সকলকে মেরুদণ্ড শক্ত করে উঠে দাঁড়াতে হবে। যারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায় জনগণ তাদের টেনে-হিঁচড়ে নামাবে। নেতাকর্মীদের রাজপথের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ৷

Leave a Reply