ঢাকায় রোববার থেকে পণ্যবাহী গাড়ির ধর্মঘট!

0
4

ঢাকাঃ সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবি আদায়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে ঢাকা বিভাগে পণ্য পরিবহনবাহী যানবাহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে ঐক্য পরিষদের মহাসমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতারা এ ঘোষণা দেন। এতে বক্তারা তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হলে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

এদিকে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পৃথক সমাবেশ থেকে সরকারকে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশ থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তারাও প্রায় অভিন্ন দাবি সংবলিত আট দফা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।

উভয় সমাবেশের মূল দাবি হলো: সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮তে যুক্ত করা চালকের তিন বছরের জেল, অজামিনযোগ্য অপরাধ ও চালকের ৫ লাখ টাকার জরিমানার বিধান বাতিল করা। ফুলবাড়িয়ায় সমাবেশের উদ্যোক্তারা নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর পক্ষ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে তেজগাঁওয়ে সমাবেশকারীরা তাদের বিরোধী পক্ষ হিসেবে পরিচিত।

ফুলবাড়িয়ার সমাবেশ থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ প্রতিটি টার্মিনালে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের নিজেদের গাড়ির চালক দায়ী ছিলেন বলে উল্লেখ করেন এবং এ আইন প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও আইন সচিবের তীব্র সমালোচনা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সামরিক সরকার এরশাদের আমলে মাগুরার একজন চালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তখন কোনো বিরোধী দলও আন্দোলন করতে পারত না। ওই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন করে ওই চালককে মুক্ত করেছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ৫ লাখ টাকা জরিমানা আর জেলের দণ্ড নিয়ে কোনো চালক গাড়ি চালাবেন না। তিনি বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ২ কোটি ভোট রয়েছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতা এনায়েত উল্লাহ এবং ওসমান আলী খানকে ডেকে নিয়ে সমস্যার সমাধান করার অনুরোধ জানান। নইলে গাড়ির চাকা বন্ধ হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আবদুর রহিম বদু বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ধর্মঘট ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।

তিনি বলেন, জরিমানা, অজামিনযোগ্য অপরাধ ও জেলের বিধান বাতিল না করলে গাড়ির চাকা ঘুরবে না। এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজি আমানুল্লাহ, আবুল কালাম, ওসমান আলী প্রমুখ।

অন্যদিকে তেজগাঁওয়ের মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মুকবুল আহমদ বলেন, মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চালাতে পারবেন না। কোনো শ্রমিক ইচ্ছা করে রাস্তায় মানুষ মারেন না। অনেক কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে। এর জন্য শুধু শ্রমিককে ফাঁসি বা জেল দেওয়ার বিধান মানব না। তিনি বলেন, সাত দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলবে না।

ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পথে পথে শ্রমিকদের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জীবন বাজি রেখে মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামিয়েছেন, শ্রমিকরা গাড়ি চালিয়েছেন। কিন্তু সড়ক আইনে ওই শ্রমিকদের ফাঁসি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা হতে পারে না। সরকারকে এসব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দাবি মানা হলে আগামীতেও রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা রাস্তায় থাকবেন।

মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন মো. আবুল কাশেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার মো. মনির, সামছুল আলম, মো. বালা মিয়া প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ করা যাবে না। ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল ও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করতে হবে। সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে হবে। সারাদেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করতে হবে। ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সুত্রঃ সমকাল অনলাইন।

Leave a Reply