নতুন প্রেসিডেন্ট আলমাস কবীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা

0
9
সৈয়দ আলমাস কবীর ও ফারহানা এ রহমান -ফাইল ছবি
বেসিস-এর নির্বাচন সম্পন্ন
নতুন প্রেসিডেন্ট আলমাস কবীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা

দেশের সফটওয়্যার খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০১৮-১৯ মেয়াদে নির্বাচনে ‘টিম হরাইজন’ প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। সাধারণ এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে নয় কার্যনির্বাহী সদস্যের বিপরীতে টিম হরাইজন থেকে ছয় জন বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে টিম হরাইজনের দলনেতা মেট্রোনেটের প্রধান নির্বাহী বেসিসের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর সর্বোচ্চ ১৯৮ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া একই প্যানেল থেকে স্পেকট্রাম সফটওয়্যার অ্যান্ড কনসালটিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশফিকুর রহমান (১৮৩ ভোট), ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফারহানা এ রহমান (১৭৮ ভোট), বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের পরিচালক শোয়েব আহমেদ মাসুদ (১৮১ ভোট), জানালা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজিদ সিদ্দিক স্পন্দন (১৮০ ভোট) এবং শুটিং স্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিদারুল আলম সানি (১৭৫ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া উইন্ড অব চেঞ্জ প্যানেলের দলনেতা দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা এবং দুর্জয় প্যানেলের দলনেতা ফ্লোরা লিমিটেডের মোস্তাফা রফিকুল ইসলামের ডিউক বিজয়ী হয়েছেন। আর সহযোগী ক্যাটাগরিতে আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে আগামী ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক পদবণ্টন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিজয়ী প্যানেলের প্রধান সৈয়দ আলমাস কবীর সমকালকে বলেন, আজ (শনিবার) রাতেই তারা পদবণ্টন সম্পন্ন করেছেন। নতুন কমিটিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সৈয়দ আলমাস কবীর। এছাড়া সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান ও শোয়েব আহমেদ এবং অন্য বিজয়ীরা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এবারের নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে তিন প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে আট পদের বিপরীতে ৩৪ জন এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে একমাত্র পদের বিপরীতে ছয় জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সর্বশেষ প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর নির্বাচনে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২৬ প্রার্থী এবং সহযোগী ক্যাটাগরিতে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

রাজধানীর বেসিস কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নয় কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত করতে ৫৪২ জন সদস্য ভোট দেন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৩৯৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সঠিকভাবে ভোট না দেওয়ায় ১৩টি ভোট বাতিল করা হয়। আর সহযোগী ক্যাটাগরিতে ১৪৫ জন ভোট দেন। এক্ষেত্রেও চারটি ভোট বাতিল হয়।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর সমকালকে বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নে সব বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

তবে এর আগে গত মঙ্গলবার বেসিসের ১১ সদস্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিনই বেসিসের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতাদের উদ্যোগে এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হস্তক্ষেপে নির্বাচন কর্মকাণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগেও বেসিসের গঠনতন্ত্র ইস্যুতে গত বছরের ৮ জুলাই এবং ২৮ ডিসেম্বর দুই দফার নির্বাচন স্থগিত হয়। অবশেষে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর ঝুলে থাকা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম কামাল জানিয়েছেন, দিনভর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। আগামী ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক পদবণ্টনের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেবে। সুত্রঃ সমকাল।

Leave a Reply