নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে: ফখরুল

0
17

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে র‌্যালি শুরু হয় এবং শান্তিনগরে মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুরের আগে থেকেই নেতাকর্মীরা পল্টন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। লাল-সবুজের কাগজের ক্যাপ পরিহিত নেতাকর্মীদের হাতে ছিল ব্যানার ও ফেস্টুন। অনেকে চড়েন ঘোড়ার গাড়িতে।

র‌্যালির আগে বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে জনগণ বাধ্য করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আজকে দেশে মানুষের কোনও অধিকার নেই। যে চেতনা নিয়ে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনার মূলমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই চেতনা ও মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করবার জন্য ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তারা সারা দেশে খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে আজকের দিনে তাদের শপথ।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করেন- গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার জন্য তাদের শপথ নিতে হবে।

তিনি বলেন, খুব পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, এদেশের মানুষ শান্তি চায়, তাদের অধিকার ফিরে চায়, গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়। খালেদা জিয়াকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। হাজার-হাজার রাজবন্দি আছে তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পরপরই র‌্যালি শুরু করেন নেতাকর্মীরা। জাতীয় পতাকা নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেন বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। অনেকের হাতে ছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি। শোভাযাত্রা থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগানও দেওয়া হয়। র‌্যালির সামনের সারিতে ছিলেন নারী কর্মীরা। লাল সবুজের শাড়ি পড়ে তারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এছাড়াও কয়েকটি পিকআপ, দুটি ঘোড়ার গাড়িতে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় নেতাকর্মীরা। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা পিকআপে ছিলেন। নারী কর্মীদের কেউ কেউ ছিলেন ঘোড়ার গাড়িতে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের একটি কাঠের কফিন বহন করতে দেখা গেছে। কফিনের গায়ে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচারের নিষ্পেষণে গণতন্ত্র এখন কফিনে’।

ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (ড্যাব), ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এ্যাব), এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন এই র‌্যালিতে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন প্রমুখ। সুত্রঃ সমকাল।

Leave a Reply