পণ্যবাহী যানের ধর্মঘট স্থগিত!

0
5

ঢাকাঃ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করেছে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘোষণা আসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহনে পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানির তদন্ত হবে। রাত থেকেই চলতে শুরু করেছে পণ্যবাহী যানবাহন।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন, গ্রেফতার চালকের মুক্তি, পুলিশের চাঁদাবাজি ও যথেচ্ছ মামলা বন্ধ করাসহ সাত দফা দাবিতে গত রোববার সকাল থেকে ধর্মঘটে যান মালিক-চালকরা। ধর্মঘটী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। বাস চলতেও বাধা দেন। যেসব চালক গাড়ি চালান হেনস্তা করেন তাদের।

নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর করা হয় বিভিন্নস্থানে। এর প্রভাব পড়ে পণ্য পরিবহনে। বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। প্রভাব পড়েছে বাজারেও। কাঁচা পণ্যের দাম বেড়েছে তিন দিনের ধর্মঘটে।

গত সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠকের পর জরুরি পণ্যবাহী যান চলাচলে বাধা তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। পরের দিন তার সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসেন তারা।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান, পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মকবুল আহমেদ, সদস্য সচিব তাজুল ইসলামসহ পণ্য পরিবহন খাতের নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন এতে।

মকবুল আহমেদ জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়েছেন তারা। এ আশ্বাসে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন আবারও।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, চালক-শ্রমিকরা অভিযোগ করেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১২টি স্থানে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে। প্রতিটি স্থানে তল্লাশির নামে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেয় তারা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরিকে এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।

চালকদের অভিযোগ ছিল, পুলিশ যথেচ্ছা মামলা দেয় মহাসড়কে। আইন না ভাঙলেও মামলা দেওয়া হয়। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মামলার রশিদ ধরিয়ে দেয়। নির্ধারিত ওজনসীমা মেনে চললেও রেহাই পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চালক-শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে অভিযোগ তদন্ত করার দায়িত্ব দেন মন্ত্রী।

মকবুল আহমেদ বলেছেন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, এক্ষেত্রে তার কিছু করার নেই।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের মধ্যে গত আগস্টে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায় আট বছর ঝুলে থাকা সড়ক পরিবহন আইন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আইনটি। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনটি আইনটি শিথিলের দাবি জানিয়েছে।

তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এ ইস্যুতে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানপন্থি ও বিরোধী- দুই অংশে ভাগ হয়ে পড়েছেন। শাজাহান খানবিরোধী পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ টানা তিন দিন ধর্মঘট করে ঢাকা বিভাগে। শাজাহানপন্থি সংগঠন ‘সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ দাবি আদায়ে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে সরকারকে। এরপর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

আগের দুই দিন ধর্মঘটের পক্ষে শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেও মঙ্গলবার তাদের দেখা যায়নি। কোথাও যান চলাচলে বাধা ও ভাংচুরের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সারাদিনেও তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল থেকে কোনো গাড়ি ছাড়েনি। ধর্মঘট স্থগিতের পর টার্মিনাল ছাড়তে শুরু করে যানবাহন।
//সংবাদ সুত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply