ফেসবুক সামলানোর সক্ষমতা নেই জাকারবার্গের !

0
19
মার্ক জাকারবার্গ

সারা পৃথিবীতে ফেসবুকের যে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ঠিক স্বস্তিতে নেই। কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা কর্তৃক ফেসবুকের তথ্য ব্যবহার নিয়ে যে কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার ব্যাপারে মার্ক জাকারবার্গ এ সপ্তাহে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তাঁর আপত্তি নেই। আর এর বিষয়বস্তু-সংক্রান্ত নীতি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, তার ফয়সালা তিনি করতে চান না।

কিন্তু একটি ব্যাপার তিনি অস্বীকার করেন, সেটা হলো, ফেসবুকের বিপুল প্রভাব। সিএনএনের প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক লরি সিগাল তাঁকে যখন প্রশ্ন করেন, ফেসবুক ‘খুবই ক্ষমতাধর’ হয়ে গেছে কি না, তখন তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না।’ বরং তিনি বলেন, ‘কোম্পানি হিসেবে আমাদের সফলতার কারণ হলো আমরা মানুষের সেবা করি এবং তাঁদের হাতে ক্ষমতা দিয়েছি। যেদিন আমরা এ কাজ করা বন্ধ করে দেব, সেদিন আমাদের প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না।’

জাকারবার্গের যুক্তি হলো, ইতিহাসে দেখা যায়, একটি খাতের বৃহত্তম কোম্পানি অনিবার্যভাবে ১০ বা ২০ বছর পর বদলে যায়। এই মুহূর্তে ফেসবুক কেবল সফল কোম্পানির তালিকাতেই নেই, সামাজিক মাধ্যমের জগতে সে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এখন ফেসবুকের গ্রাহকসংখ্যা কয়েক শ কোটি এবং গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনের জগতে এর বিপুল প্রভাব আছে। বিগত কয়েক বছরে আরও কিছু সামাজিক মাধ্যম সে কিনে নিয়েছে। ফলে বাজারে দৃশ্যত তার প্রতিযোগী নেই।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম অধ্যয়নের অধ্যাপক শিবা বৈদ্যনাথন বলেন, ফেসবুক বিশ্বের ২০০ কোটির বেশি মানুষকে দেখতে, চিন্তা করতে ও অনুভব করতে প্রভাবিত করে। ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে মার্ক এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন।

অ্যাপল, আমাজন ও গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের সঙ্গে ফেসবুকের নাম উচ্চারিত হয়। তারাও প্রযুক্তি খাতের বিশাল প্রতিষ্ঠান। এই গোষ্ঠীর অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো ফেসবুক রাতারাতি নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানকে উল্টে দিতে পারে। সম্ভবত তারা সমাজকেও উল্টে দিয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে খবর আসে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকা পাঁচ কোটি ফেসবুক গ্রাহকের অজ্ঞাতে তাদের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করেছিল। তথ্য ব্যবহার ও গোপনীয়তার প্রসঙ্গে ফেসবুকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে। তাদের প্রভাব যত বেড়েছে, ততই এর মাত্রা বেড়েছে। কিন্তু এবারের ব্যাপারটা কেবল বিজ্ঞাপন বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করেছে।

জাকারবার্গের সাবেক পরামর্শক ও উদ্যোক্তা রজার ম্যাকনামি বলেন, কোনো কোম্পানি যদি নিজের অজ্ঞাতে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, তাহলে সে দৃশ্যত খুবই শক্তিশালী। বিশ্লেষক ব্রায়ান ওয়েইসারের মত হলো, ফেসবুক খুবিই শক্তিশালী কি না, তার চেয়ে সে বেশি তাড়াতাড়ি এত শক্তিশালী হয়েছে কি না, তাই মূল বিষয়।

অন্যদিকে ফেসবুকের সাবেক নির্বাহী যোগাযোগ ব্যবস্থাপক ডেক্স টরিক-বারটন মনে করেন না যে ফেসবুক অতি শক্তিশালী। কিন্তু মানুষ যে মনে করে ফেসবুক খুবই শক্তিশালী, এই ধারণাটিই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুকের প্রভূত ক্ষমতার ব্যাপারটি স্বীকার করতে না চাইলেও সিএনএনের সাক্ষাৎকারে বোঝা গেল, তিনি নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে অতটা স্বস্তিতে নেই। নতুন পণ্যের প্রস্তাবের ব্যাপারে নয়, বরং বৈশ্বিক পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে এমন নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অস্বস্তি স্পষ্ট।

জাকারবার্গ বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য ফেসবুকের আধেয় নীতি প্রণয়ন করা আমার জন্য মৌলিকভাবে অস্বস্তিকর। ব্যাপারটা হলো, ঘৃণাবাচক কথাটি কোথায়? এ কাজ করার জন্য আমাকে কে বাছাই করেছে? আমি এটা করতে চাই না।

সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ বলেন, ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠার সময় কেউ যদি তাঁকে বলতেন, একদিন তাঁকে রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, তাহলে ‘আমি সত্যি বিশ্বাস করতাম না যে ১৪ বছর পর আমাকে এ কাজ করতে হবে’।

নতুন অভিযোগ
এখানেই শেষ নয়, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক নাকি অনেক দিন ধরেই ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে ফোন কল ও এসএমএসের তথ্য সংগ্রহ করছে। এআরএস টেকনিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হলেও ফেসবুক ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ফেসবুক এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্যবহারকারী যতটুকু অনুমতি দেয়, ঠিক ততটাই তথ্য সংগ্রহ করে ফেসবুক। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র এআরএসের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের পছন্দের মানুষ খুঁজে পাওয়াটা সহজ করাই তাঁদের কাজ। ফলে ব্যবহারকারীরা প্রথমবার মেসেজিং ও সামাজিক মাধ্যমের অ্যাপে সাইন-ইন করলে সাধারণভাবেই তাঁদের কন্টাক্টের নম্বরগুলো আপলোড করা হয়।

এদিকে কেমব্রিজ অ্যানালাইটিকার তথ্য জালিয়াতির ঘটনায় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক, ‘আপনাদের তথ্য সুরক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা যদি তা না পারি, তবে আমরা দায়িত্ব পুরোপুরি পালনে ব্যর্থ।’সুত্রঃ প্রথম আলো।

Leave a Reply