‘বাঘ শিকার’ করে ফাইনালে ভারত

0
22

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২১৪ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ৷কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ১৭৭ তুলতে পারল না বঙ্গবিগ্রেড৷বাংলাদেশ হারিয়ে রবিবাসরীয় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল রোহিত অ্যান্ড কোং৷

ওয়াশিংটনদের সুন্দর বোলিংয়েই আপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্যটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের সামনে, যা তাড়া করতে নেমে শেষমেশ হারের মুখ দেখতে হয় তাদের৷

টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে ডেকেছিলেন মাহমুদুল্লাহ৷ টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলেও লিগের শেষ ম্যাচে জ্বলে ওঠে রোহিতের ব্যাট৷ ক্যাপ্টেনকে যোগ্য সঙ্গত দেন টি-টোয়েন্টির ‘ব্র্যাডম্যান’ সুরেশ রায়না৷

আর প্রেমাদাসার স্লো-পিচে শুরুটা দারুণ হয় ভারতের৷ রোহিত-ধাওয়ান ওপেনিং জুটিতে ৭০ রান যোগ করেন৷১০ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় ‘মেন ইন ব্লু’৷ ফর্মে থাকা শিখর ধাওয়ানের স্টাম্প নড়িয়ে দেন রুবেল হোসেন৷ তবে ডাগ-আউটে ফেরার আগে ২৭ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন টিম ইন্ডিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনার৷

শিখর আউট হওয়ার পর রায়নাকে সঙ্গে নিয়ে স্লো-পিচে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন ক্যাপ্টন স্বয়ং৷ দ্বিতীয় উইকেটে ১০২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে রোহিত-রায়না৷ প্রথম তিন ম্যাচে রান না-পাওয়া রোহিত ৮৯ রানে ইনিংসের শেষ বলে রান-আউট হন রোহিত৷ ৬১ বলের ইনিংসে ৫টি ছয় ও ৫টি চার মারেন ক্যাপ্টেন৷ আর অল্পের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করেন রায়না৷ ৩০ বলে পাঁচটি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি-সহ ৪৭ রান করেন সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টি-২০ সিরিজে কামব্যাক করা উত্তরপ্রদেশের এই বাঁ-হাতি৷

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি৷ মুশফিকুর রহিম টুর্নামেন্টে উপর্যুপরি দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি করেন৷ তবে বাকিরা যথাযোগ্য সঙ্গত করতে না পারায় ব্যর্থ হয় মুশফিকের ৫৫ বলে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস৷ তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান উভয়েই ২৭ রানের সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন৷

বাংলাদেশের টপঅর্ডারে ভাঙন ধরান ওয়াশিংটন সুন্দর৷ মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে নতুন বলে দৌড় শুরু করে তিনি ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের উইকেট তুলে নেন৷ এছাড়া সিরাজ, শার্দুল ও চাহাল নিয়েছেন একটি করে উইকেট৷

ভারতের ১৭ রানে ম্যাচ জয়ের নায়ক হয়ে দেখা দেন দলনায়ক রোহিত৷ তার হাতেই ওঠে ম্যাচের সেরার পুরস্কার৷ বাংলাদেশকে হারানোর সুবাদে ভারত চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে৷ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ, উভয়ের সংগ্রহে রয়েছে তিন ম্যাচে ২ পয়েন্ট৷ অর্থাৎ শুক্রবারের পারস্পরিক লড়াই দু’দলের কাছে কার্যত সেমিফাইনাল হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ যারা জিতবে, ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে তারাই ৷

Leave a Reply