বারোর ভূত ছাড়িয়ে কোয়ার্টারে বার্সেলোনা!

0
5

২০১২ সালে চেলসির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। সেবার দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল চেলসি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাও ঘরে তুলেছিল ইংলিশ এই ক্লাব। ওই বছর বার্সার হয়ে বাজেভাবে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি। ওই হারের ভূতই তাড়া করে ফিরছিল মেসিকে, তাঁর ক্লাব বার্সাকেও। সেই ‘ভূত’ কালকের ম্যাচে কাঁধ থেকে নামালেন মেসি-বার্সেলোনা। চেলসিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিলেন মেসি-সুয়ারেজরা।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগটা ভালো যাচ্ছিল না মেসির। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই মৌসুমে কালকের জোড়া গোল নিয়ে মেসির গোল মাত্র ৬টি। যেখানে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর গোলসংখ্যা ১২। আসলে কালকের ম্যাচ মেসিকে অনেক কিছুই দিয়েছে। এই যেমন ম্যাচের দুই মিনিট আট সেকেন্ডে ম্যাচের প্রথম গোলটি তাঁর ক্যারিয়ারে (ক্লাব এবং দেশের হয়ে) সবচেয়ে দ্রুততম গোল। কালকের ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শততম গোলের দেখা পেলেন মেসি।

শেষ ষোলোর প্রথম লেগেই চেলসির বিপক্ষে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পান মেসি। কাল মনে হচ্ছিল, চেলসির রক্ষণকে কী করে ফাঁকি দিতে হয়, সেটা বুঝে গেছেন বার্সার এই গোল মেশিন।

ন্যু ক্যাম্পে মেসি গোল করেছেন, করিয়েছেনও। চেলসির খেলোয়াড়েরা তখনো বল পায়ে ছোঁয়াতে পারেননি। ততক্ষণে মেসির দ্রুততম গোলে ১-০–তে পিছিয়ে যান আন্তোনিও কন্তের শিষ্যরা। এরপর কিছুক্ষণ আক্রমণ পাল্টা–আক্রমণ চলে। তবে ২০ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠে হুট করেই বল পেয়ে যান মেসি। তাঁকে আর পায় কে? একাই এক এক করে চেলসির রক্ষণভাগের দেয়াল ভেঙে এগিয়ে যান। ডি বক্সে সতীর্থ সুয়ারেজ। ‘হয় নিজে শট নেবেন কিংবা সুয়ারেজকে দেবেন’—এমনটাই হয়তো ভাবছিলেন চেলসির রক্ষণ আগলে রাখা খেলোয়াড়েরা। তিনি মেসি দেখেই হয়তো এর কিছুই করলেন না। দেখলেন, সুয়ারেজের চেয়ে খানিক বেশি তৎপর আরেক উইঙ্গার ওউসমানে ডেমবেলে। মেসি আড়াআড়ি বল ক্রস করলেন তাঁকেই। রেকর্ড পরিমাণ ট্রান্সফার ফি নিয়ে গত বছর বার্সায় যোগ দেওয়া এই ফরাসি ঠিকঠাক কাজটা সেরে ফেললেন। এরপর ৬৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিগে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ফুটবলের এই জাদুকর।

চেলসিও একেবারে ছেড়ে কথা বলেনি। ম্যাচের ৪৫ ভাগ সময়ে চেলসির খেলোয়াড়দের পায়েই বল ছিল। বেশ কয়বার গোছানো আক্রমণে বার্সার রক্ষণকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। তবে বার্সার রক্ষণভাগ ছিল পুরোপুরি সজাগ। ৪৮ মিনিটে বার্সার ডি বক্সে পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে চেলসি। সেই আবেদন অবশ্য কানে তোলেননি রেফারি। পরে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেল, রেফারির সিদ্ধান্তই ঠিক ছিল। ম্যাচের ৩৬-৩৭ মিনিটে পরপর দুবার খুব ভালো সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। গোলমুখে বেশ কিছু শটও নিয়েছেন হ্যাজার্ড-ফেব্রিগাসরা। সব মিলিয়ে ১৪টি শট নেয় চেলসি। যার বেশির ভাগই বার্সার রক্ষণভাগ কিংবা গোলরক্ষক আটকে দেয়। দুই লেগ মিলিয়ে চারটা শট তো বার্সার পোস্টে লেগেই ফিরে আসে।

তবে বার্সার একজন মেসি আছে, যেটা নেই চেলসির। কাল ম্যাচ শেষে দুই দলের কোচই মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন। চেলসির কোচ কন্তে বললেন, মেসির প্রশংসা করার সুযোগ কারোরই হাতছাড়া করা উচিত নয়। যখন সুযোগ আসবে, অবশ্যই তাঁর প্রশংসা করতে হবে। এমন ম্যাচেই একজন সত্যিকার ‘টপ’ খেলোয়াড়কে চেনা যায়।

বার্সায় মেসির গুরু আরনেস্তো ভেলভার্দের গলায়ও ঝরে পড়ল প্রিয় ছাত্রের প্রতি ভালোবাসা। এএফপিকে বললেন, ‘সে জানে কিছু মুহূর্তে তারকাদের বেরিয়ে আসতে হয়। ওর দলে থাকা আমরা উপভোগ করি। এমন একজনকে দলে পেয়ে আমরা যথেষ্ট ভাগ্যবান, যে ইতিহাসেরই অংশ।’

Leave a Reply