বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে যমুনা ফিউচার পার্কে দর্শনার্থীর ঢল!

0
22

ঢাকাঃ বিশ্ব পরিভ্রমণে বের হয়েছে আইসিসি-২০১৯ ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে এটি। ট্রফিটি এখন রাখা হয়েছে রাজধানী ঢাকার অত্যাধুনিক শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কের সেন্টার কোর্টে। সেটি একনজর দেখতে সেখানে নেমেছে দর্শনার্থীর ঢল।

আগেই জানা ছিল, এদিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও সর্বাধুনিক শপিংমলটিতে প্রদর্শিত হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। প্রদর্শন শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল বেলা ১১টা। এর আগেই সেখানে ভিড় জমান ক্রিকেট অনুরাগীরা। শুরুতে আগত দর্শনার্থীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন সুশৃঙ্খল-মনোরম পরিবেশে তা দেখা যাচ্ছে।

যমুনা ফিউচার পার্কে এখন বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। সাধের সোনালি ট্রফি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই। অনেকে একা দেখে যাচ্ছেন। জুটি বেঁধে আসছেন তরুণ-তরুণীরা। অনেকে পরিবার নিয়েও জমায়েত হচ্ছেন। সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এককথায়- নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধও এর দর্শক।

বিশ্বকাপ ট্রফি মাঠে গড়াতে এখনও আট মাস বাকি। এর আগেভাগে সোনার ট্রফি দেখে অনেকে আশায় বুক বাঁধছেন, আবার অনেকে হতাশ হচ্ছেন। অনেককে দীর্ঘশ্বাসও ফেলতে দেখা গেছে। তবে স্বপ্ন দেখার হারই বেশি।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে সপরিবারে আসা রাজু আহমেদ বলেন, আমরা ক্রিকেটে এখন অন্যতম পরাশক্তি। কোনো দলকেই আর ভয় পাই না। আমাদের আছে মাশরাফির মতো নেতা, সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, তামিম ইকবালের মতো হার্ডহিটার ওপেনার, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো কাটার মাস্টার। নিজেদের দিনে তারা সব প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ট্রফিও আমাদের হাতে উঠবে; সেটি হতে পারে ২০১৯ বিশ্বকাপও।

তবে হতাশ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আবরার সিহাম, আমরা গেল কয়েক বছর ধরে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলছি। বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালেও উঠছি। তবে একটুর জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরাজয় আর সহ্য হচ্ছে না। এ গেরো খুলতে হবে।

যমুনা ফিউচার পার্কে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফি। এর আগে বুধবার সকালে বাংলাদেশে আসে সেটি। প্রথম দিন ট্রফিটি রাখা হয় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি একাডেমির সামনে। দুপুরে তার সঙ্গে ছবি তুলেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।

বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্কে প্রদর্শনী শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি চলে যাবে সিলেটে। শুক্রবার দিনভর সেখানেও সর্বসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে। পর দিন শনিবার ট্রফি যাবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

সব মিলিয়ে চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি যাবে নেপালে। গেল ২৭ আগস্ট দুবাইয়ে আইসিসির সদর দফতর থেকে বিশ্ব পরিভ্রমণে বের হয় ট্রফিটি। ৯ মাসে পাঁচ মহাদেশ, ২১ দেশ ও ৬০টির বেশি শহরে ঘুরে বেড়াবে সেটি।

আগামী বছরের ৩০ মে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পর্দা উঠবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরের। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছে যাবে ট্রফিটি। ১৪ জুলাই ফাইনালি লড়াইয়ে জয়ী দলের হাতে উঠবে সেটি।
// সুত্রঃ যুগান্তর //

Leave a Reply