ভারত প্রাচীর টপকাতে পারবে তো বাংলাদেশ!

0
18

ক্রিকেটে যে কোনো হিসেব ও মানদন্ডে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত অনেক এগিয়ে। শক্তি-সামর্থ্য আর সাফল্যে ভারতীয়রা যোজন-যোজন এগিয়ে। তবুও প্রায় এক যুগ হতে চললো বাংলাদেশ আর ভারত একদিনের সীমিত ওভারের ম্যাচ মানেই বাড়তি আকর্ষণ, উত্তেজনা ও প্রাণচাঞ্চল্য। কেন এমন বাড়তি আকর্ষণ, প্রতিদ্ব›দ্বীতার বাতাবরণ ও প্রাণ চাঞ্চল্য?

কারণ একটাই, এই বাংলাদেশের কাছে হেরে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের গ্রæপ পর্বেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল ভারতের। এরপর থেকে একদিনের সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশ অন্যরকম প্রতিপক্ষ ভারতের।

দু’দেশের ক্রিকেটার, ভক্ত ও সমর্থকদের কাছেও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ একটা ধুন্ধুমার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, দু’দলের মধ্যে একটা মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের উপজীব্যও উপস্থি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতীয়রা যেমন ২০০৭ বিশ্বকাপের গ্রæপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারটাকে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গের ম্যাচ ধরে বসে আছে, একইভাবে বাংলাদেশের কাছেও ভারত একবার নয়, বারবার কোন বড় সাফল্যের মঞ্চে ওঠার বাঁধা হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।

২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হেরেই প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙ্গেছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণের সেই ঘটনাবহুল কোয়ার্টার ফাইনাল অনেক কারণেই বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রশ্নবিদ্ধ আম্পয়ারিং ওই সেরা আটের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

না হয়, সে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো। সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের পর দু’দেশের ক্রিকেটার ও ভক্তদের মধ্যে একটা অন্যরকম বৈরি মানসিকতাও জন্মেছে। ভারতের বিপক্ষে খেলা হলেই বাংলাদেশ শিবিরে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রসঙ্গ আলেচিত হয়।

ভক্তরাও ওই ম্যাচের কথা মনে করেন। আর গত বছর এই ভারতীয়দের প্রবল প্রতিরোধের মুখেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলার স্বপ্নও গেছে চুরমার হয়ে। সে কারণেই আগামীকালের নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে টাইগারদের বিপক্ষে ভারতীয়দের ম্যাচটি পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

কিন্তু এর বাইরে আগামীকালের ফাইনালের আরও একটি অন্তর্নিহীত তাৎপর্য ও গুরুত্ব আছে। তাহলো, এখনো কোন আন্তর্জাতিক আসরে ট্রফি অধরাই রয়ে গেছে বাংলাদেশের। কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মানেই ব্যর্থতা সঙ্গী। আর যদিও বা ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া; কিন্তু শেষ অবধি রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে না পারার পথেও ভারত পুরনো বাধা। আইসিসির বিশ্ব আসরগুলোয় শেষ হাসি হাসার সম্ভাবনা জাগাতে না পারলেও, এর আগে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলে মোট চারটি আসরের ফাইনালে পৌঁছেও শিরোপা জেতা হয়নি টাইগারদের।

এক কথায়, কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বাংলাদেশ। ঘুরিয়ে বললে ট্রফি জেতাই হয়নি। ট্রফি জয়ের আফসোসটা থেকেই গেছে।

ইতিহাস জানাচ্ছে, টাইগাররা প্রথম কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে ২০০৯ সালে। তাতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্যায়ে জিতলেও ফাইনালে গিয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে প্রথম ট্রফি জেতার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে টাইগাররা।

এরপর ২০১২ সালে ৫০ ওভারের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের পরাজয় বড় এক আক্ষেপ হয়ে আছে। আর এ বছরের শুরুতে ২৭ জানুয়ারি শেরে বাংলায় তিন জাতি ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টে সেই শ্রীলঙ্কার কাছে আবার ৭৯ রানের হার ট্রফি জয়ে কুঠারঘাত হয়েই আছে।

এতো গেল, ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টের ফাইনালে না পারা আর ব্যর্থতার সাতকাহন। টি-টোয়েন্টি আসরেও ট্রফি না জেতার অনুশোচনা কিছু কম নয়। সেটাও ঘরের মাঠে। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ভারতের কাছে ফাইনালে ৮ উইকেটের পরাজয় এখনো স্বপ্ন ভঙ্গের প্রতীক হয়ে রয়েছে টাইগারদের।

দুই বছর পর সেই ভারতের বিপক্ষে আরও একটি ফাইনালে দেখা। কাকতালীয়ভাবে সে ফাইনালটিও ছিল এই মার্চ মাসে (২০১৬ সালের ৬ মার্চ শেরে বাংলায়)। প্রবল ঝড়ো বাতাস ও ভারি বর্ষণে ১৫ ওভারে গড়ায় খেলা। তাতে ১২০ রান করে ৮ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ।

২৪ মাস ১২ দিন পর সেই ভারতের বিপক্ষে আবারও ফাইনালে দেখা। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে ফাইনালে দেখা না হলেও ভারতের বিপক্ষে দু’দুটি বিশ্ব আসরের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ।

হোক তা ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি আসরে, ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে ভারতের সাথে যে তিনবার নক আউট পর্বে দেখা হয়েছে বাংলাদেশের; প্রতিবার ভারতই জিতেছে। তাও লড়াই করে কিংবা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নয়। ভারতীয়দের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ফাইনালে দেখা হয়েছে। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিদ্ব›দ্বীতা হয়েছে। আর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। প্রতিবার হারই সঙ্গী থেকেছে।

ক্রিকেট বিশ্বে ভারত সব হিসেব-নিকেশে বাংলাদেশের চেয়ে সমৃদ্ধ দল। র্যাঙ্কিং, রেটিং আর অবস্থান- যাই বলা হোক না কেন, ভারত অনেক ওপরে; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে ভারত আর বাংলাদেশ ক্রিকেট লড়াইয়ে এসেছে অন্য মাত্রা। বাংলাদেশের সাথে খেলা হলেই নড়ে চড়ে বসে ভারতীয়রা। ভারতের প্রচার মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে। টিম ইন্ডিয়াও অনেক বেশি ফোকাস ও সিরিয়াস থাকে।

নক-আউট পর্বে বার বার ভারতের সামনে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়া টাইগাররা এবার মাথা তুলে দাড়াতে পারবে তো? অনেক কারনে এরই মধ্যে ‘নিদাহাস ট্রফি’ স্মরণীয় হয়ে গেছে। হয়ত থাকবেও।

কিন্তু টাইগারদের দীর্ঘ দিনের সাফল্যর খরা কি কাটবে এ আসরে? সাকিব, তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহরা কী এবার শেষ হাসি হাসতে পারবেন? ট্রফি জিততে না পারার আক্ষেপ-অনুশোচনা কাটিয়ে এবার ট্রফি হাতে দেশে ফিরবে টাইগাররা? অনেক প্রশ্নই উকি ঝুকি দিচ্ছে। সুত্রঃ জাগো নিউজ ২৪।

Leave a Reply