মইনুলের বিরুদ্ধে আরও ৪ মামলা, দু’টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা!

0
10
মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ -ফোকাস বাংলা

ঢাকাঃ সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে একটি মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। একটি মামলায় বাদী ৫০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

এদিকে রংপুরের এক মামলায় সোমবার রাতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ময়মনসিংহে ডিজিটাল আইনে মামলা: ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক ও ভালুকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক রোজিনা খান মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী মনিরা সুলতানা মনি বলেন, মইনুল নারী সমাজসহ সকল সাংবাদিক সমাজকে অপমানিত করেছেন।

মামালার আইনজীবী অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি সরকার দাবি করেন, মইনুল ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও মিডিয়ায় এই উক্তি প্রচার করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এর ২৯(১) ধারায় অপরাধ করেছেন।

চট্টগ্রামে মানহানি মামলা: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামেও মানহানি মামলা হয়েছে। সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন এক নারী। শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জনান চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের নাজির মো. আবুল কালাম আজাদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানার ভাটিয়ারী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে দন্ডবিধির ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় মানহানি মামলাটি আদালতে দায়ের করেন। এতে বাদী অভিযোগ করেন, আসামি দুষ্ট ও আইন অমান্যকারী ব্যক্তি। আসামি জনসম্মুখে একজন নারীকে কটূক্তি করে দেশের নারী সমাজকে অবমাননা করায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে এই মামলাটি দায়ের করছি। মামলার বাদী নারীদের নিয়ে কুঠির শিল্প পরিচালনা করেন।

কক্সবাজারে গ্রেফতারি পরোয়ানা: কক্সবাজারেও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ্‌র আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন।

কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলামের দায়ের করা একটি মামলায় আদালত এই পরোয়ানার আদেশ দেন।বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেলসহ অর্ধশত আইনজীবী।

মাগুরায় ৫০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা: মাগুরায় ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ৫শত কোটি টাকার মানহানি মামলা হয়েছে। মাগুরার সিনিয়র জুডিসিয়াল দ্বিতীয় আদালতে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেছেন মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা রহমান।বাদী পক্ষের আইনজীবী সনি আহমেদ জানান, ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

এর আগে সোমবার একই অভিযোগে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে রংপুর, কুমিল্লা, ভোলা, কুড়িগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামলা হয়। ওই দিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

তারও আগে জামালপুর ও ঢাকায় মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকার মামলার বাদী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি নিজেই। এই দুই মামলায়ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তবে মামলা দুটিতে আগাম জামিন নিয়েছেন ব্যারিস্টার মইনুল। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’ এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। কিন্তু আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’
// সুত্রঃ সমকাল অনলাইন//

Leave a Reply