মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ পরা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
10
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল— ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ পরা যাবে না। তবে হাতে রাখা যাবে। উন্মুক্ত জায়গায় কোনো সভা করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ষবরণ নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে নজর রাখা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ভুভুজেলা নিষিদ্ধ থাকবে। বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইভটিজিং, উচ্ছৃঙ্খলতা ও নাশকতা প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন। সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বর্ষবরণ সম্পর্কে বিরোধিতা করে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যাতে অপপ্রচার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী বাঙালির ঐতিহ্য বর্ষবরণ উদযাপন নিরাপদ ও আনন্দময় করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। রাজধানীর চারুকলা, রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রসরোবরের মতো জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। নিয়মিত মনিটরিংসহ বিশেষ তল্লাশির ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানের দিন পুরো ঢাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা করবে ডিএমপি। নববর্ষের আগের দিন বিশেষ স্টিকার ছাড়া কোনো গাড়ি ঢাবি ক্যাম্পাসে চলাচল করতে পারবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহলে থাকবেন। হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, গুলশান লেক, ধানমণ্ডি লেকের মতো যেসব এলাকায় জনসমাগম বেশি হয়, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকবে।’

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি-না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো তথ্য হাতে নেই। তবে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ফায়ার সার্ভিসের জন্য বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টার কেনা হবে। এই হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ- দুই কাজই করা যাবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস খুব তৎপর ছিল। সময়মতো গাড়ি সেখানে পৌঁছেছিল। তবে উৎসুক জনতার জন্য কাজ শুরু করতে ৫ থেকে ১০ মিনিট দেরি হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনায় উৎসুক জনতাকে ভিড় না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

//সূত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply