শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু!

0
36

ঢাকাঃ ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সোমবার শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এদিন দুর্গতিনাশিনী দেবীর অধিষ্ঠান, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

পাঁচদিনের দুর্গোৎসবের প্রথম দিনে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের মধ্যে ছিল ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ। এ সময় বেলতলা কিংবা বেলগাছের নিচে দেওয়া হয় ষষ্ঠীপূজা। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস ছাড়াও সব মণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগআরতির আয়োজন রয়েছে। এছাড়াও সন্ধ্যায় বিশেষ আলোকসজ্জাসহ অনেক মণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার মহাসপ্তমী। ওইদিন সকালে ত্রিনয়নী দেবীদুর্গার চক্ষুদান করা হবে। এরপর সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা হবে। এভাবে উৎসব চলবে আগামী শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার। ঢাকা মহানগরীর ২৩৪টিসহ সারাদেশের ৩১ হাজার ২৭২টি পূজামণ্ডপে সোমবার দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও যোগ দেওয়ায় উৎসব সার্বজনীন রূপ নিয়েছে। সারাদেশের মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের জানান দিচ্ছে। পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, আরতি আর মাইকের আওয়াজে এখন মাতোয়ারা সারাদেশের পূজা মণ্ডপগুলো।

পূজাকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে সারাদেশে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপির পাশাপাশি কোথাও কোথাও নিযুক্ত করা হয়েছে র‌্যাব-বিজিবি সদস্যদের। সাদা পোশাকে সতর্ক প্রহরায় আছেন গোয়েন্দা সদস্যরাও। অনেক মণ্ডপে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে কড়া তল্লাশির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। এতোসব কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছেদ ফেলেনি পূজার আনন্দমুখরতায়।

তবে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে সোমবার বাঙালির শারদোৎসবের সূচনা হলেও রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে এখনও ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন একট দেখা যায়নি। আয়োজকরা জানান, মহাসপ্তমীতে দর্শনার্থীদের ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে। বুধবার মহাষ্টমী থেকেই মূলত মন্দিরে ও মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামবে।

কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের মণ্ডপের সামনে বিশাল প্যান্ডেল ছাড়াও মন্দিরকে সাজানো হয়েছে নতুন রঙ, সাজ ও আলোকসজ্জায়। এখানে পুলিশের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে। বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সকাল ও সন্ধ্যায় ষষ্ঠীপূজার নানা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে এখানে। পূজার পাশাপাশি মেলাঙ্গন চত্বরে আয়োজিত হচ্ছে মেলা।

একই অবস্থা গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপেও। আকর্ষণীয় প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপসহ সংলগ্ন এলাকাকে বর্ণাঢ্য সাজ ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল পূজামণ্ডপেও দুর্গা পূজা শুরু হয়েছে সাড়ম্বড়ে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের মণ্ডপে সন্ধ্যায় গত বছরের প্রতিমা মন্দিরের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হবে। মণ্ডপসহ পুরো প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বাহারী সাজে। হিন্দু অধ্যুষিত পুরান ঢাকার অলিগলিতেও উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।

রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এছাড়া মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালি মন্দির, শাঁখারীবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী পূজামণ্ডপ, পান্নিটোলা, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির, অভয়নগর দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, ঢাকেশ্বরীবাড়ী, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজার পঞ্চানন শিব মন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, উত্তর মুশুন্দী, ফরাশগঞ্জ জমিদার বাড়ী এবং বিহারীলাল জিও মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে উৎসবের আমেজে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে।
// সুত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply