সড়ক দুর্ঘটনায় এক দিনেই প্রাণ গেল ২২ জনের!

0
7
প্রতীকী ছবি

এ যেন সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এক দিনেই প্রাণ গেল ২২ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন।

বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ছয় জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত হন ৮ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ধরন দেখে মনে হয়েছে, মাইক্রোবাসের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। অন্যদিকে মাদারীপুরে ওরস মাহফিলের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও একজন। এছাড়া যশোরে ট্রাক-লেগুনা সংঘর্ষে ৩ জন এবং পটুয়াখালী, বগুড়া ও চরফ্যাশনে একজন করে মারা গেছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম ও লোহাগাড়া : বুধবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জাঙ্গালিয়ায় কক্সবাজারমুখী রিলাক্স প্রিমিয়ামের একটি বিলাসবহুল বাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ আটজনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গভীর রাতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

নিহতরা হলেন- কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর ছনখোলা নয়াপাড়া এলাকার মো. জিসানের স্ত্রী তসলিমা আক্তার (২০), তার শিশু মেয়ে সাদিয়া (২) ও তসলিমা আক্তারের মা হাসিনা মমতাজ (৪৫), লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া লস্কর পাড়া এলাকার হজেরা বেগম (২৬), চুনতি খলিফার পাড়া এলাকার আবু তাহের (২২), চকরিয়ার খুটাখালীর উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার বান্ডু মিয়ার ছেলে মাইক্রোবাসের চালক মো. নুরুল হুদা (২৫), লোহাগাড়ার সিকদারপাড়া এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে আফজাল হোসেন সোহেল (৩০) ও বাঁশখালীর শেখেরখীল এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. সায়েম (২২)। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তবে আহতদের মধ্যে মাইকোবাসের যাত্রী ছাড়াও বাসের কয়েকজন যাত্রীও রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাসটির চালকই দায়ী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের এসপি নজরুল ইসলাম বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও দুর্ঘটনার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, মাইক্রোবাসের চালক কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব অথবা নেশাগ্রস্থ ছিলেন। তাছাড়া সেখানে রাস্তা কিছুটা ঢালু ছিল।

দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি কক্সবাজার থেকে রওনা দেয়ার পর সড়কের বিভিন্নস্থান থেকে যাত্রী উঠায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহসড়কে এ ধরণের বেশ কিছু মাইক্রোবাস নিয়মিত চলাচল করছে। বাসের চেয়ে ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় অল্প দূরত্বের যাত্রীরা মাইক্রোবাসে যাতায়াত করে থাকেন।

সাতকানিয়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ইদ্রিস যুগান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। বাসটি রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে পড়ে গেছে। মাইক্রোবাসের ভেতরে অনেকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

টেকেরহাট (মাদারীপুর): পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া ওরশ মাহফিল শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সুবিন-নবীন নামের একটি লোকাল বাসে বাড়ি ফিরছিলেন মুসল্লিরা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাবাড়ি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৩ জন মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ যাত্রী। নিহতরা হলেন- হাবি হাওলাদার (৫০), আব্বাস খান (৩২), হাসিয়া বেগম (৫৫), হাসান (১৪), আক্কাস (৪০), নয়ন (২৭), সায়েম (২৫)। এদের সবার বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙ্গাব্রিজ, পান্তাপাড়া, খৈয়রভাঙ্গা ও আটিপাড়া এলাকায়।

খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সাধারন যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, আমরা আহতদের যথাসাধ্য চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম বাবনাতলায় বেলা ১২টার দিকে ট্রাকের চাপায় মেটরসাইকেল আরোহী নাঈম বেপারী (২৫) মারা যান। নাঈম মাদারীপুর শহরের বাগেরপাড় এলাকার ইব্রাহিম বেপারীর ছেলে এবং মাদারীপুর বিকাশের এসআর ছিলেন।

যশোর: ট্রাক চাপায় লেগুনার তিন যাত্রী নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গাবখালি গ্রামের সুভাষ বৈরাগীর ছেলে সুব্রত বৈরাগী (২৫), একই উপজেলার কুয়াদা গ্রামের ঋষিকান্ত দাসের স্ত্রী শিউলী দাস (২৬) ও অজ্ঞাত পরিচয় যুবক (৩০)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপাদিয়া থেকে যশোরে আসছিল লেগুনাটি। যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়ায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে লেগুনার যাত্রীরা আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক।

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও এক পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের মীর্জাগঞ্জ উপজেলার রানীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হন একটি মোটরসাইকেলের চালক ডিস ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ খান। আহত অপর মোটরসাইকেলের চালক পুলিশ কনেস্টবল নেওয়াজসহ অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চরফ্যাশন থেকে মোটরসাইকেলে বেতুয়া সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলার চরমাদ্রাজ গ্রামের জুয়েল (২৪)। টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার মোটরসাইকেল উল্টে গেলে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়া : ধুনটে বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত খেতে এসে সড়ক দূর্ঘটনায় আহসান হাবিব (২৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত দেড়টার দিকে ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ফকিরপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে তার মৃত্যু হয়।দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ): সার বোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার-বগুলাবাজার সড়কের শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

// সূত্রঃ যুগান্তর / সমকাল/ জাগো নিউজ২৪//

Leave a Reply