সবার দৃষ্টি আজ আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়!

0
6

ঢাকাঃ চৌদ্দ বছর এক মাস ১৮ দিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। দেশের ইতিহাসে বর্বরোচিত ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আজ বুধবার। সবার দৃষ্টি পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের আদালতের দিকে। নৃশংস এ হামলার ঘটনায় দায়ের দুটি মামলার বিচারকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আজ রায় ঘোষণা হলে বিচারের আশায় দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ হবে। জাতি আরেকটি কলঙ্কের দায় থেকেও মুক্তি পাবে; যে কলঙ্ক লেপন করা হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। ওই দিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে চালানো হয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা।

হত্যাযজ্ঞের পর শুরু থেকেই তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার নানা অপচেষ্টা করা হয়। সাজানো হয় ‘জজ মিয়া নাটক’। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুনভাবে তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য।

তদন্তে উঠে আসে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পরিচালিত এ হামলার মূল টার্গেট ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকে হত্যার এমন ষড়যন্ত্র ইতিহাসে বিরল। তবে সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বয়ে যায় রক্তগঙ্গা। হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। আহত অনেকে এখনও শরীরে স্প্নিন্টার নিয়ে যন্ত্রণাকাতর জীবন কাটাচ্ছেন।

বহু বাধা ও প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে মামলার কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ম্ফোরক আইনের দুই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন ভবনে স্থাপিত ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন আজ বুধবার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন। নিহতদের স্বজন ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এবং সেই জজ মিয়ার প্রত্যাশা, সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা হোক।

এদিকে রায়কে ঘিরে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে রাজধানীসহ সারা দেশে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ-র‌্যাব। সতর্ক থাকতে মাঠ পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। আদালত এলাকাসহ রাজধানীতে মোতায়েন থাকবে পুলিশ-র‌্যাবের চার হাজার সদস্য। কাশিমপুরে তিন কারাগার ঘিরে রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সমকালকে বলেন, ২১ আগস্ট নৃংশস হামলায় জড়িতরা দেশবাসীর কাছে ঘৃণিত। দেশের জনগণ এ মামলার রায়ের জন্য অধীর আগ্রহে রয়েছেন। রায়ের মাধ্যমে জাতি একটি কলঙ্ক থেকে মুক্ত হবে। এর আগে অনেক যুদ্ধাপরাধীর রায় হয়েছে। নির্বিঘ্ন পরিবেশের মধ্যে সেই রায় কার্যকরও হয়েছে। এবার রায়কে ঘিরে দেশে কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। ঘৃণিত এসব আসামির সঙ্গে কেউ নেই।

গতকাল রাজধানীতে একটি আলেচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় নিয়ে বহু ঘটনা ঘটেছে; বহু কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃত সত্যটা কেউ উদ্ঘাটন করতে চাইছে না। তার দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপির কোনো ব্যক্তি ওই ঘটনায় জড়িত ছিল না।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশের নজরদারি রয়েছে; যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক। এটি আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের একটি অংশ। রায়কে ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সমকালকে বলেন, প্রত্যাশা থাকবে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে। এর মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের অপর আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, হাওয়া ভবনে বসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়। চালানো হয় নারকীয় হামলা। এমন নারকীয় ঘটনা বিশ্বে নজিরবিহীন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ মামলায় ২২৫ জন সাক্ষীর একজনও বলেননি তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা হামলায় সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এই ধরনের মামলা সাজানো হয়েছে। আসামি মুফতি হান্নানের জবানবন্দির ভিত্তিতে এ মামলায় যদি সাজা দেওয়া হয় তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

পলাতক তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, যারা হামলায় জড়িত ছিল তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জানা যায়, গ্রেনেড হামলার দুই মামলার সাক্ষী ছিলেন ৫১১ জন। তাদের মধ্যে ২২৫ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে জড়িত সকলের ব্যাপারে তথ্য এসেছে বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর চলে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

একুশে আগস্টের মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। আসামিদের মধ্যে তিনজনের ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর রাতে কার্যকর হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাই বর্তমানে এ মামলার আসামির সংখ্যা ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন কারাগারে ও ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

গ্রেনেড হামলা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩৮ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানুষ হত্যা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, পরিকল্পনা ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে কর্তব্য কাজে অবহেলা, আলামত নষ্ট, তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা এবং আসামিকে দেশত্যাগের সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন সাবেক আইজিপিসহ পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তিনজন তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সিআইডির সাবেক কর্মকর্তা।

যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে : সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি যাদের চাওয়া হয়েছে (দ বিধির ১২০-বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ এবং বিস্ম্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারা) সেই অভিযুক্ত ৩৮ জন হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপি দলীয় ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মো. হানিফ, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম ও ডিজিএফআইর সিআইবি ইউনিটের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (পরে মেজর জেনারেল হয়েছেন) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, হরকাতুল জিহাদ নেতা আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মাদ ওরফে জিএম, শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরী জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, বাবু ওরফে রাতুল বাবু, মুফতি হান্নানের ভাই মুহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডাক্তার জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলুবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদত উল্যাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহমেদ তামিম, মাইনুদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান সুমন, মো রফিকুল ইসলাম সবুজ, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুনছালিন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ও লিটন ওরফে মাওলানা লিটন।

সর্বোচ্চ সাত ও পাঁচ বছর কারাদে র ধারায় বিচার শেষ হওয়া ১১ আসামি হলেন- সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, খোদা বক্স চৌধুরী ও শহুদুল হক, সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান, সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাইদ হাসান, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর (অব.) এ টি এম আমিন, তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়া তিন তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশীদ। এই ১১ সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে আসামি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, ডিউক, সাইফুল ইসলাম ও এটিএম আমিনের বিরুদ্ধে দ বিধির ২১২ ও ২১৭ ধারায় চার্জ গঠন হয়। দ বিধির ২১২ ধারায় মৃত্যুদ বধান রয়েছে। অন্যদিকে দ বিধির ২১৭ ধারায় কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আইনের বিধান পালন না করার অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর পর্যন্ত কারাদে র বিধান রয়েছে।

আসামি ওবায়দুর রহমান ও খান সাইদ হাসানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় দ২১২ ও ২১৭ ধারায়। দ র রশীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয় দ বিধির ২১৮ ও ৩৩০ ধারায়।

ফিরে দেখা : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলার দিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। পর দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। মামলা ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকে তৎকালীন একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই ঘটনার প্রথম থেকেই গভীর ষড়যন্ত্র করে হামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাজানো হয়েছিল ‘জজ মিয়া’ নাটক। তবে সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে সব সত্য। হামলায় ব্যবহূত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করতে মুফতি হান্নান বাড্ডায় তার কার্যালয়, মোহাম্মদপুর ও অন্যান্য জায়গায় সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক করেন। ২০০৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি আল মারকাজুলের একটি মাইক্রোবাসে মাওলানা আবদুর রশীদকে নিয়ে বনানীর ‘হাওয়া ভবনে’ যান মুফতি হান্নান, আবু তাহের, শেখ ফরিদ ও মাওলানা তাজউদ্দিন।

তারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য সহযোগিতা চান। মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সব সত্য আড়াল করে সাজানো হয় জজ মিয়া কাহিনী। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পুনর্তদন্ত শুরু হয়। বেরিয়ে আসতে থাকে অনেক অজানা তথ্য। তদন্ত শেষে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন দুই মামলায় অভিযোগপত্র দেন। এতে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২।

তারেক-বাবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ : সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের অভিযোগের ব্যাপারে বলা হয়- হাওয়া ভবনে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এনএসআই কর্মকর্তা আবদুর রহিম, ডিজিএফআই কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের আশ্বাসে জঙ্গিরা তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। পুনরায় ১৮ আগস্ট আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় জঙ্গিদের নিয়ে বৈঠক হয়।

সেখানে বাবর জঙ্গিদের জানান, হানিফ ও আরিফ তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা করবে। এমনকি তাদের সঙ্গে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকবে। সম্পূরক চার্জশিটের পর তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। ১১৯ কার্যদিবসে এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস। বাকি ৯০ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামি পক্ষ। পরে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। ১১৯ কার্যদিবসে এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস। বাকি ৯০ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামি পক্ষ।
// সুত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply