সম্ভাব্য নোবেল পুরস্কার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় ‘ইমরান খান’!

0
3
সম্ভাব্য নোবেল পুরস্কার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় নাম এসেছে ইমরান খানের।

সম্ভাব্য নোবেল পুরস্কার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় নাম এসেছে ইমরান খানের। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ইমরান খানকে এ তালিকায় মনোনিত করা হয়।

দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর নামের ওই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় বোর্ড নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে ইমরান খানকেও তালিকাভূক্ত করেছে। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

গত কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের হাতে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে ছেড়ে দেয়ায় ইমরান খানকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী।

টুইটারে ইমরানকে নোবেল দেয়ার দাবিতে হ্যাশট্যাগ ঝড় তুলেছেন তারা। পাকিস্তানজুড়ে টুইটার ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল ‘নোবেল প্রাইজ ফর ইমরান খান’ হ্যাশট্যাগ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হইচইয়ের মধ্যে ইমরান বলেছিলেন, তিনি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য নন।ইমরান জানিয়েছিলেন , কাশ্মীরবাসীর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংকট নিরসন এবং উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন যিনি, তারই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত।

দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের আগাম তালিকা প্রকাশ করেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্য হিসেবে ইমরান খানকে তালিকাভূক্ত করার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি যে কাজটি করেছেন; তা বিবেদপূর্ণ বর্তমান বিশ্বের শান্তিপ্রিয় নেতৃত্বের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।’

দ্য ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর ইমরান খানকে নোবলে পুরস্কারের জন্য যোগ্য বর্ণনা দিয়ে লিখেছে, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার নিদর্শন হিসেবে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেদের সীমানায় বিমান ভূপাতিত করে আটক পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করায় বিদ্যমান পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। দেশটির প্রথাগত রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে তার এমন সিদ্ধান্ত অনেকটা আশ্চর্যের।’

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় অন্তত ৪০ সেনা নিহত হন। এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

এই হামলার জেরে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করেছে দেশটি।

এরপর ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানে বালাকোট এলাকায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে বোমা হামলা চালায়। ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করে এতে অনেক জঙ্গি হতাহত হয়েছে।

তবে পাকিস্তান বলছে, এতে তাদের দেশে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর পর এদিন বিকালে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক গোলা বর্ষণ করে। এতে ভারতীয় দুই নাগরিক নিহত হওয়া দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় দুটি বিমান ঢুকে পড়লে পাকিস্তান তা ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় দুইজন নিহত ও এক ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে পাকিস্তান।

দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আটক ভারতের পাইলটকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান। পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এ মুক্তির ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাইলটকে মুক্তির কারণ হিসেবে ইমরান খান বলেছেন, শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

//সুত্রঃ যুগান্তর//

Leave a Reply