স্পেনের বিপক্ষে ‘ইতিহাসের বাজে হার’ আর্জেন্টিনার

0
26
  • আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৬-১ গোলের বিশাল জয় পেয়েছে স্পেন।
  • হ্যাটট্রিক করেছেন ইসকো।
  • চোটের কারণে আজও মাঠে ছিলেন না মেসি।

চোটের কারণে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি। কিন্তু দলের প্রাণভোমরাকে ছাড়া যে মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে এমন ‘চোট’ পেতে হবে, সেটা বোধ হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক ভাবতেও পারেননি। ইসকোর অনবদ্য এক হ্যাটট্রিকে স্পেনের কাছে যে ৬-১ গোলে হেরেছে মেসির দল।

এটি ছিল বিশ্বকাপের স্কোয়াড নির্বাচনের আগে আর্জেন্টিনার শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। আজকের ম্যাচের পর কোচ হোর্হে সাম্পাওলির জন্য যে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে, সেটি বোঝাই যাচ্ছে। অন্যদিকে, হুলেন লোপেতেগুইয়ের অধীনে টানা ১৮ ম্যাচে অপরাজিত স্পেন কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ইতিমধ্যেই তুলে ধরেছে। আজকের ম্যাচে ইসকোর তিন গোলের পাশাপাশি স্পেনের পক্ষে গোল করেছেন ডিয়েগো কস্তা, লাগো আসপাস ও থিয়াগো আলকানতারা। আর্জেন্টিনার পক্ষে সান্ত্বনার গোলটি নিকোলাস ওটামেন্ডির।

ম্যাচের শুরুতেই কিন্তু আর্জেন্টিনা এগিয়ে যেতে পারত। অষ্টম মিনিটে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন গঞ্জালো হিগুয়েইন। ম্যাক্সিমিলিয়ানো মেজার ক্রসটি থেকে গোল করতে না পেরে কঠিন কাজটিই বরং সাফল্যের সঙ্গে করেছেন গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে না পারা এই স্ট্রাইকার।

চার মিনিট পরেই ডিয়েগো কস্তার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। গোলটির একেবারে উৎসে ছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। আর্জেন্টিনার সীমানায় বল পেয়ে তিনি তা ঠেলেন সামনের দিকে। মার্কো এসেনসিও সেই বল ধরে কস্তার দিকে বাড়ালে তা থেকে গোল করেন তিনি। এরপর মেজার একটি সুযোগ নস্যাৎ করে দেন সার্জিও রামোস।

ইসকো গোলের খাতা খোলেন ম্যাচের ২৭ মিনিটে। রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ এসেনসিওর নিচু ক্রসটিকে দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। ৩৯ মিনিটে এভার বানেগার কর্নার থেকে আর্জেন্টিনাকে গোল এনে দেন ওটামেন্ডি। বানেগার কর্নার থেকে বাতাসে রামোসকে পরাভূত করেন ছোবলের ভঙ্গিতে।

৫২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসকো। এই গোলেরও উৎসমূলে ছিলেন ইনিয়েস্তা। ৫৫ মিনিটে ইসকো ও আসপাসের সহায়তায় স্পেনকে ৪-১ গোল এগিয়ে নেন থিয়াগো। ৭৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৫-১ করেন আসপাস। পরের মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইসেকা।

এই ম্যাচের পর ব্রাজিল–সমর্থকেরা আফসোস করতেই পারেন। অল্পের জন্য যে তাঁদের চিরশত্রুরা সাত গোল হজম করেনি। এসেনসিওর ক্রস থেকে করা রামোসের গোলটি যদি বাতিল না হতো, তাহলে ব্রাজিল–সমর্থকেরাও তো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ‘সেভেনআপ’ বিদ্রুপে ভাসিয়ে দিতে পারতেন। আর্জেন্টিনার কপাল ভালো বলতেই হবে।

আজকের ম্যাচটি ভুলেই যেতে চাইবেন হাভিয়ের মাচেরানো। রক্ষণে তিনি ছিলেন যাচ্ছেতাই। অথচ আজকেই হাভিয়ের জেনেত্তির সমান ১৪২টি ম্যাচে দেশের জার্সি গায়ে নামলেন তিনি। মাচেরানোর নেতৃত্বাধীন রক্ষণ আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুর্দশার জন্য দায়ী অনেকটাই।

আজকের ম্যাচটি বড় কলঙ্ক হয়েই থাকবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে। ৬-১ গোলে হার দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানেই হার। যদিও স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচেই কেবল ৬-১ গোলে হারেনি আর্জেন্টিনা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে একবার আর ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বলিভিয়ার কাছে আরও একবার ৬-১ গোল হেরেছিল আর্জেন্টিনা। সুত্রঃ প্রথম আলো।

Leave a Reply