স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন লতিফ সিদ্দিকী!

0
9
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কালিহাতী উপজেলা শহরের মুন্সিপাড়ার নিজ বাসায় গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার ভাই কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এই ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দেশবাসী চেনেন। ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কী করেছে, তা সবারই জানা। তাঁদের দ্বারা মানুষের আর কোনো উপকার হবে না। আমি নির্বাচনে এসেছি ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিশিয়ারিদের বিরুদ্ধে, অত্যাচারী-শোষকদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে। আমি নির্বাচনে এসেছি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে, সংসদে জনগণের কথা বলতে এবং শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতে।’

এক প্রশ্নের জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বর্তমানে কালিহাতী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঐক্যসাধনের জন্য আমি এসেছি। গত ৪০ বছর ঐক্য রক্ষা করেছি। আমার ধারণা, আমি এবারও ঐক্য রক্ষা করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই। কালিহাতীর আসনটি আওয়ামী লীগের। কালিহাতীর মানুষ আমার মূল শক্তি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসন উপহার দেওয়ার জন্যই নির্বাচনে লড়ব।’

এর আগে গত শনিবার বিকেলে লতিফ সিদ্দিকী ঢাকা থেকে কালিহাতীতে আসেন। কালিহাতীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে সাক্ষাৎ করেন। ইতিমধ্যে লতিফ সিদ্দিকীর কর্মীরা কালিহাতীর মোট ভোটারের ১ শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন।

লতিফ সিদ্দিকীর পৈতৃক নিবাস কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে এ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত ও মন্ত্রিত্ব লাভ করেন।

ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে মন্ত্রিসভা ও দলীয় পদ থেকে অপসারিত হন। পরে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন লতিফ সিদ্দিকী। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান ইমাম খান এ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও হাসান ইমাম খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
// সুত্রঃ প্রথম আলো//

Leave a Reply