২৫ শর্তে চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আজ!

0
15
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টরে নতোরা-ফটো সৌজন্যে সমকাল

অবশেষে ২৫ শর্তে চট্টগ্রামে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে পছন্দের ভেন্যু পায়নি তারা। নগরীর লালদীঘি মাঠের পরিবর্তে মহানগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নূর আহমদ সড়কে আজ শনিবার ২৫ শর্তে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে সমাবেশ ঘিরে পদে পদে বাধার অভিযোগ করেছেন বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অনেক অতিথির জন্য রুম বুকিং নিয়েও শেষ মুহূর্তে এসে বাতিল করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে সমাবেশের অতিথিদের রাখা নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের। এ ছাড়া সমাবেশের প্যান্ডেল নির্মাণে স্থানীয় ডেকোরেটরগুলোও অনীহা প্রকাশ করেছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দাবি, সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে এগুলো করা হচ্ছে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, সমাবেশ সফল করতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রস্তুতি নিতে আসা জ্যেষ্ঠ নেতারা চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকে সমাবেশের অতিথিও। তারা চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও রাত যাপনে হোটেলে তাদের ঠাঁই হচ্ছে না। ঢাকা থেকে আসা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের রাখতে নগরীর জামাল খানে সিনিয়রস ক্লাবে রাখার জন্য আগে থেকে রুম বুকিং দেওয়া হলেও গতকাল শুক্রবার তা বাতিল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ আরও কয়েক নেতার এই হোটেলে থাকার কথা ছিল। তবে সিনিয়রস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার সমকালকে বলেন, আমাদের ক্লাবে কেবল সদস্যদেরই থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। যাদের জন্য রুম বুকিং দেওয়া হয়েছে, তারা ক্লাবের সদস্য না হওয়ায় হয়তো রুম বাতিল করা হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে গিয়ে সমাবেশের অনুমতি পাওয়ায় মঞ্চ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ শেষ করতে বেগ পেতে হচ্ছে ঐক্যফন্ট নেতাদের। চট্টগ্রামের খ্যাতিমান শাহাবুদ্দিন ডেকোরেটর্সকে সমাবেশের মঞ্চ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে তারা অপারগতা প্রকাশ করে। এভাবে আরও কয়েকজন ডেকোরেটর মালিক অপারগতা প্রকাশ করলে বিএনপি নেতারা নিজস্ব উদ্যোগে মঞ্চ তৈরির দায়িত্ব নেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক বিএনপি নেতা বলেন, মঞ্চ তৈরিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কোনো ডেকোরেটর মালিক রাজি হচ্ছেন না। এ থেকেই বোঝা যায় কী পরিস্থিতিতে সমাবেশ করতে হচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী সিরাজ উল্লাহ সমকালকে বলেন, চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ যাতে সফল না হয় সেজন্য সরকার নানাভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বাধার সৃষ্টি করছে। সিলেটের সমাবেশ থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। চট্টগ্রামে যাতে বাধা এড়াতে পারেন, সেজন্য সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে চলে আসবেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে শেষ মুহূর্তে গিয়ে অনুমতি পাওয়ায় তড়িঘড়ি করে নূর আহমদ সড়কে সমাবেশ করতে গতকাল দিনভর প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত সময় কেটেছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের। ঐক্যফ্রন্টের বাইরে বিএনপি আলাদাভাবেও প্রস্তুতি সভা করেছে। সমাবেশ সফল করতে বেশ কয়েকটি কৌশল নেন তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপদপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী সমকালকে বলেন, আজ চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সমাবেশ করতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাছে অনুমতি চেয়েছিল জাতীয় ঐক্যফন্ট। কিন্তু বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে নাসিমন ভবনের নগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নূর আহমদ সড়কে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সিএমপির বিশেষ শাখার দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন, কিছু শর্তসাপেক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নূর আহমদ সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত ভঙ্গ হলে সমাবেশের অনুমতি বাতিল করা হবে।

সমাবেশের অনুমতি যে ২৫ শর্তে :সমাবেশ করার অনুমতির সঙ্গে ২৫টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে সিএমপি। গতকাল সিএমপির বিশেষ শাখার উপকমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ স্বাক্ষরিত ওই অনুমতিপত্রে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর মধ্যে দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু করে বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমাবেশে কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা যাবে না, সমাবেশের আগে-পরে সড়ক ও আশপাশে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, কোনো ধরনের লাঠিসোটা, লোহার রড, আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না, উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না, অবাঞ্ছিত কেউ যাতে সমাবেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য আয়োজকদেরকেই নজরদারি করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইডি কার্ডসহ নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থাকতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশমুখে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে। কোনো কারণে সমাবেশস্থলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে সমাবেশের আয়োজকদের দায়ী থাকতে হবে এবং সমাবেশের ভেতরে-বাইরে নিজেদের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে।

সমাবেশে খালেদা-তারেকের মুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত :সমাবেশ সফল করতে গতকাল সকালে নাসিমন ভবনস্থ নগর বিএনপি কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে ঐক্যফ্রন্ট। বিকেলে একই স্থানে আলাদাভাবে সভা করেছে বিএনপি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের সভায় নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুক্তির দাবিকে জোরালোভাবে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনর সভাপতিত্বে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপি নেতারা।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের সভায় বিএনপি নেতারা ছাড়াও জেএসডির নগর সভাপতি গোলাম জিলানী চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের নগর সভাপতি সোহরাব হোসেন, গণফোরামের নগর সভাপতি মুজিবুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
// সুত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply