৩০ বয়সসীমাকে অসমতা বলছেন তরুণেরা

0
16
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা সাধারণ ছাত্রদের জন্য ন্যূনতম ৩৫ বছর করার দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসমাবেশ করে। শাহবাগ, ঢাকা, ৩১ মার্চ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গড় আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ার যুক্তিতে সরকারি চাকরিতে অবসরের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই যুক্তিতে বেকার তরুণদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা বলছেন, যথাসময়ে পিএসসির পরীক্ষা নিতে না পারার ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হওয়া এবং সেশনজটের কারণে যথাসময়ে শিক্ষাজীবন শেষ হচ্ছে না। ফলে বর্তমান বয়সসীমায় প্রত্যেক নাগরিকের চাকরি পেতে সমতার বিষয়টি নিশ্চিত হচ্ছে না।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মহাসমাবেশ’ করে চাকরিপ্রত্যাশীরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের কয়েক শ বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ব্যানারে তাঁরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করেন। অনেক ফেস্টুনে নৌকা আঁকা ছবি ব্যবহার করা হয়। এর আগে গত ১০ মার্চ একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন তাঁরা। বেশ কয়েকজনকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মহাসমাবেশ চলাকালে শাহবাগে শনিবারও আন্দোলনকারীদের ঘিরে পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মধ্যেই সমাবেশ হয়। ‘চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ চাই’ লেখা হলুদ-সাদা ফিতা মাথায় জড়িয়ে তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ করেন। চাকরিপ্রত্যাশীরা ‘৩২, ৩৩ মানি না, ৩৫-এই হোক ঠিকানা’, ‘৩৫-এ যখন যুবনীতি, তবে কেন এত ভীতি’, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি মোদের মাতা, মাথার ওপর দিয়ে দিন ৩৫-এর ছাতা’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

একাধিক আন্দোলনকারী প্রথম আলোকে বলেন, দেশের মানুষের গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর, আয়ু বেড়ে ৫০ হলে ৩০ বছর করা হয়। এখন আয়ু বেড়ে ৭১ হওয়ার পরও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে বয়সের সীমা ৪০ বছর। অন্য প্রদেশগুলোতেও ৩৮ থেকে ৪০ বছর। শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ানে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর। এ ছাড়া ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে কোথাও কোথাও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বা তার ওপরে। দেশের দক্ষ ও মেধাবীরা যেকোনো বয়সে সরকারি চাকরিতে ঢুকতে পারেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই স্নাতকোত্তর শেষ করতে শিক্ষার্থীদের বয়স ২৭ থেকে ২৮ বছর হয়ে যায়৷ চাকরির প্রস্তুতির জন্য তাঁরা মোটেই সময় পাচ্ছেন না। তাই যোগ্যতা থাকার পরও অনেকে চাকরি পান না।

সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

বেশ কয়েক বছর ধরেই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাঁরা অনশন, অবস্থান, অবরোধ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগেও পুলিশ তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। সুত্রঃ প্রথম আলো।

Leave a Reply