ইসির গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ!

0
17

ঢাকাঃ সামনে নির্বাচন
ইসির গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ নির্বাচন কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ভোটের মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব উঠতে পারে বলে ইসি সূত্র জানা গেছে। এ ছাড়া সেনা মোতায়েন, পদে থেকে এমপিদের প্রার্থী হওয়া এবং সংসদ বহাল রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয় নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন সদস্যদের মধ্যেই মতবিরোধ রয়েছে।

বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় এ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। বৈঠকের প্রথম এজেন্ডায় রাখা হয়েছে- ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ইসিকে অবহিতকরণ’। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে আজ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সমকালকে বলেছেন, সংবিধান সংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো কমিশন সভায় আলোচনার জন্য এজেন্ডাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কোনো কমিশনার কোনো প্রস্তাব দিলে সেটা নিয়ে যে কোনো সময়েই আলোচনা হতে পারে। ভোটের মাঠে এমপিদের ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্ন উত্থাপন সংবিধান সংশ্নিষ্ট।

তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, কমিশন সভাকে আমলাতন্ত্রিক বেড়াজালে আটকানোর কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন সংশ্নিষ্ট যে কোনো ইস্যু কমিশন সভায় আলোচনা হতে পারে। তা যদি কমিশনের এখতিয়ার-বহির্ভূত হয় তাহলে সংশ্নিষ্টদের বা সরকারকে জানানো যেতে পারে। সরকার যদি কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে তো কমিশনের কিছুই করার নেই। সংবিধান সংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না- এমন মনোভাব ঠিক নয়।

কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান সদস্যদের কেউ কেউ মনে করেন সংসদ বহাল রেখে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে কমিশন সভায় আলোচনা করে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে এ সব বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার-বহির্ভূত বলে আলোচনার আদৌ প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন একাধিক কমিশন সদস্য। আজকের বৈঠকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ কমিশন সভা বসেছিল গত ৩০ আগস্ট। সেখানে আরপিও সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়। মতবিরোধের কারণে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ওই সভা বর্জন করেন।

এদিকে আজকের বৈঠকে ইসির নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয় শাখাসহ সব বিভাগ থেকে ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসূচি’র চূড়ান্ত কপি কমিশনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশন সভায় ভোটের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে অন্তত ৯৬টি কর্মপরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নসূচির লক্ষ্যমাত্রা কমিশনকে অবহিত করা হবে। নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরুর পর কমিশন সভায় ভোটের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে ফের কমিশন সভা আহ্বান করা হবে।

আইনানুযায়ী ৩০ অক্টোবর থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের ৯০ দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে ইসি। তফসিল উপলক্ষে রেওয়াজ অনুযায়ী জাতির উদ্দেশে সিইসির দেওয়া ভাষণের খসড়াও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজকের সভায় সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করা, ব্যালট পেপার, কাগজ-কালিসহ ইসির প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা কমিশনকে জানানো হবে।’

আইনানুযায়ী ৩১ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার রয়েছে ইসির। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনের কাছে ভোটার তালিকার সিডি পাঠানো, সিল, প্যাড ও কালিসহ নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ও ম্যানুয়াল তৈরির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এ কাজ দুটির জন্য ইসি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনীর জন্য অপেক্ষা করছে বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরপিও সংশোধন হলেই সঙ্গে সঙ্গে তারা এটি সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানান, জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আজকের কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনে ইসির যাবতীয় প্রস্তুতিই শেষের পথে। বাকি কাজগুলোও সময় মতো শেষ করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আজকের সভায় তফসিল চূড়ান্তের বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তফসিলের জন্য আরপিও সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে হবে। ইসির অনুমোদনের পর এটা এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করলে মন্ত্রিসভা হয়ে তা সংসদের বিবেচনার জন্য উঠবে। ওই সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে কমিশন হয়তো আরেকটি সভা করে তার পরই তফসিল ঘোষণা করবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, সংবিধান অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দশম সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর। বিএনপিসহ সমমনা কয়েকটি দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। তার আগে নবম সংসদ নির্বাচনের তফসিল হয় ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর। তিন দফা তারিখ পরিবর্তন করে ভোট হয় ২৯ ডিসেম্বর।

প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫৪ দিন আগে, তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪৭ দিন আগে, চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের ৬৯ দিন আগে, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের ৭৮ দিন আগে, ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের ৪৭ দিন আগে, সপ্তম সংসদ নির্বাচনের ৪৭ দিন আগে, অষ্টম সংসদ নির্বাচনের ৪২ দিন আগে, নবম সংসদ নির্বাচনের ৪৭ দিন আগে ও দশম সংসদ নির্বাচনের ৪২ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
// সুত্রঃ সমকাল//

Leave a Reply